বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের রপ্তানি খাতকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আশাবাদী। এ জন্য তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া, কৃষিপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে সেবা খাতের রপ্তানি আয় বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), পর্যটন এবং অন্যান্য আধুনিক সেবাখাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সহজ বাণিজ্য পরিবেশ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

