ইতালিতে অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, শনাক্ত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ইতালির ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সময়ে তাদের আওয়ামী লীগের পক্ষে আয়োজিত সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির একটি সড়কে বাঁধনকে কয়েকজন বাঙালি যুবক হেনস্থা ও হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
হামলার ঘটনায় দুজনের পরিচয় শনাক্তের দাবি
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ইলিয়াস মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির নাম শিপল মাহমুদ বিপ্লব বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনিও ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট, ছবি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ঘটনার যে ভিডিওটি সামনে এসেছে, সেখানে দেখা যায়, রাতে ইতালির একটি রাস্তায় কয়েকজন বাঙালি যুবক বাঁধনের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে তাকে উদ্দেশ করে কথাবার্তা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে একজনকে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যায়। আরেকজন তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার জন্য এগিয়ে আসেন বলে ভিডিওতে দৃশ্যমান।
ঘটনার পুরো সময় বাঁধনকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়েই বর্তমানে হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, বাঁধনকে হেনস্থা ও হামলার ঘটনায় শুধু শনাক্ত হওয়া দুজনই নয়, আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও সূত্রের দাবি।
তবে প্রাথমিকভাবে তাদের সবার নাম ও পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তের স্বার্থে যাচাই ছাড়া অন্য কারও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
জয়ের সঙ্গে ছবি, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা
ঘটনার পর আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিস সফরে গেলে হামলার ঘটনায় শনাক্ত কয়েকজনকে তার সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভেনিসে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সক্রিয় দেখা গেছে।
তবে কারও সঙ্গে ছবি থাকা বা কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিজেই কোনো হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা নির্ধারণের জন্য আইনগত তদন্ত ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রয়োজন।
হামলার পর আতঙ্কিত বাঁধন
হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে আসেন আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে তাকে অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় তার চোখেমুখে ভয়ের ছাপ ছিল এবং আঘাতের কারণে মুখের একটি অংশ ফুলে থাকতে দেখা যায়।
লাইভে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং হামলার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর তার ভক্ত, সহকর্মী ও ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীর ওপর বিদেশের মাটিতে এমন হামলার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধ থেকে হামলা—উঠছে প্রশ্ন
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও সেটিই হামলার কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফল জানা প্রয়োজন।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষা
ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই করে হামলায় প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—তা স্পষ্ট হলে হামলার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালিতে আজমেরী হক বাঁধনকে কয়েকজন বাঙালি যুবক হেনস্থা ও হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনাক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজন ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগের আইনগত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

