মৌলভীবাজারে চাঁদা না পেয়ে কাঁচা ফলসহ প্রায় ১২০০ কমলা গাছ কেটে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মকর্তা প্রীতমের বিরুদ্ধে। সরকারি জায়গায় গাছ লাগানোর অভিযোগ তুলে বাগানটি ধ্বংস করা হলেও, ফল পাকা পর্যন্ত সময় না দিয়ে ফলন্ত গাছ কেটে ফেলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অন্যায় আবদার ও নৃশংসতার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিঃস্ব ও নিরীহ কিছু কৃষক হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে একটি কমলা বাগান গড়ে তুলেছিলেন। সম্প্রতি সেই বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বন কর্মকর্তা প্রীতম। কাঙ্ক্ষিত চাঁদা না দেওয়ায় তিনি কাঁচা ফলভর্তি প্রায় ১২০০টি বিশাল সাইজের কমলা গাছ কেটে তছনছ করে দেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের প্রশ্ন—গাছগুলো যদি অবৈধভাবে বন বিভাগের জায়গায় লাগানো হয়েও থাকে, তবে ফল পাকা পর্যন্ত কি ন্যূনতম সময় দেওয়া যেত না? ফল পাকার পর বা ফসল তোলার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতো, কিন্তু এভাবে কাঁচা ফলসহ ফলজ গাছ কেটে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া কোনো সুস্থ মানসিকতা বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হতে পারে না।
প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, বন বিভাগের শত শত একর পাহাড় ও বন উজার করে যেখানে প্রভাবশালী ও অপরাধীরা অবৈধ দখলদারিত্ব চালাচ্ছে বা ভাড়া দিচ্ছে, সেখানে বন বিভাগ রহস্যজনকভাবে নীরব। অথচ কিছু সাধারণ ও গরিব মানুষ ফলজ গাছের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে গেলেই প্রশাসনের এমন নির্মম কোপ পড়ে।
ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির দাবি
ঘটনার পর থেকে মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রীতমের কঠোর শাস্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সরকার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা, যেন তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হয়।

