ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

menu

পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী নিয়ে প্রতারণা, দালাল চক্রের ৪ সদস্যের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী নিয়ে প্রতারণা, দালাল চক্রের ৪ সদস্যের কারাদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দালাল চক্রের চার সদস্যকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী নিয়ে প্রবেশের সময় স্বজনদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা।

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম ফুয়াদ।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন পাবনার হেমায়েতপুর এলাকার শহিদুল মণ্ডলের ছেলে ইদ্রিস, আ. বারেকের ছেলে সুজন আলী, তৈয়ব আলীর ছেলে জাকির হোসেন এবং চাঁদ আলীর ছেলে মাসুদ রানা।

হাসপাতালের প্রবেশপথেই দালালদের তৎপরতা

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে রোগীরা আসেন। রোগীদের সঙ্গে তাঁদের স্বজনেরাও হাসপাতালে উপস্থিত হন। এ সময় অনেক পরিবার চিকিৎসার ব্যবস্থা, হাসপাতালের নিয়মকানুন ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত না জানায় তাঁদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেয় দালাল চক্র।

অভিযোগ রয়েছে, রোগী নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশের সময়ই স্বজনদের গতিরোধ করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন চক্রের সদস্যরা। পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে বাইরের বেসরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।

রোগীর স্বজনদের অসহায়ত্ব, মানসিক চাপ ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগকে পুঁজি করে এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছে অভিযানসংশ্লিষ্ট দল।

এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার হাসপাতালের বহির্বিভাগ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, অটোরিকশায় করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশের সময় দালাল চক্রের সদস্যরা রোগীর স্বজনদের অটোরিকশা আটকে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রের কেউ হাসপাতালের সড়কে দাঁড়িয়ে, কেউ আবার পাশের দোকানের আশপাশে অবস্থান করে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের লক্ষ্য করছিলেন। সুযোগ বুঝে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

এ অবস্থায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

অভিযান চালিয়েও থামছে না দালাল চক্রের তৎপরতা

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হলেও কিছুদিন পর আবার তাঁদের তৎপরতা শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের কয়েকজন সদস্য আবার সক্রিয় হয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি করছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এবারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রতারণার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন এসিল্যান্ড

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম ফুয়াদ বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর তারা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তারা রোগীদের স্বজনদের হয়রানি করছিল।

তিনি জানান, অভিযানে গিয়ে দালালি কার্যক্রম চালানোর সময় চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অসহায় মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অন্যায় কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

রোগী ও স্বজনদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য হাসপাতাল এলাকায় দালালদের তৎপরতা উদ্বেগের বিষয়। চিকিৎসা বা ভর্তি করানোর কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে কিংবা সরকারি হাসপাতাল থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হাসপাতালের নির্ধারিত বিভাগ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হলে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় দালালদের তৎপরতা শনাক্ত করা এবং রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

পাবনা মানসিক হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানে চারজনের কারাদণ্ডের ঘটনা আবারও রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এনেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!