ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত তিনজনই পরস্পরের বন্ধু ছিলেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার হাসানহাটি গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে চয়ন মোল্লা (২৩) এবং একই গ্রামের হেমায়েত মোল্যার ছেলে নয়ন (২০) ও সিয়াম (২০)।
ঘুরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন যুবক পরস্পরের বন্ধু ছিলেন। শনিবার রাতে তারা একটি মোটরসাইকেলে করে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় ঘুরতে যান। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তারা।
পথে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত যানবাহনের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাইওয়ে পুলিশ। পরে আহত তিন যুবককে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে একজনের মৃত্যু
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চয়ন মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত নয়ন ও সিয়ামের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে নয়ন ও সিয়ামের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাদের ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে নয়নের মৃত্যু হয়। অপরদিকে সিয়াম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান।
এভাবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ হারান একই এলাকার তিন বন্ধু।
এলাকায় শোকের ছায়া
তিন যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাইয়ুম মিয়া বলেন, ‘রাতেই একজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে।’
তিনি জানান, একই এলাকার তিন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
অজ্ঞাত যানবাহন শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল খান জানান, মোটরসাইকেলটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়া অজ্ঞাত যানবাহনটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে যানবাহনটি শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত করা গেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন
ভাঙ্গার ব্যস্ত মহাসড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনায় তিন তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একটি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মতো ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধুর প্রাণহানি স্বজনদের জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি করেছে গভীর উদ্বেগ।
পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

