পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমির একটি অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি মালিকানাধীন জমির প্রায় ৬ শতাংশ দখল করে নিজের জমিতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে বাধা দিতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফির দাবি, তিনি কোনো সরকারি জমি দখল করেননি। উচ্চ আদালতের রায়প্রাপ্ত ওয়ারিশদের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে একাধিক মালিকের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে বর্তমানে মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মালিকানা অর্জন করে। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজায় ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে এবং ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে নিবন্ধিত হয়।
বিদ্যালয়ের দাবি, সম্প্রতি ছয় লেন সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত তাদের রেকর্ডভুক্ত জমির প্রায় ৬ শতাংশ অংশ কেটে সেখানে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যা নুরুজ্জামান কাফির ব্যক্তিগত জমিতে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন,
"রাস্তা নির্মাণের খবর পেয়ে আমরা বাধা দিতে গেলে উল্টো আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।"
কাফির বক্তব্য
অভিযোগের জবাবে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, তার নিজস্ব জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। এজন্য তিনি প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সরকারি জমি বিক্রির কোনো ক্ষমতা তার নেই এবং বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
পরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি নিয়ে পূর্ববর্তী মালিকদের একটি মামলা উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আদালতের রায়ে ওয়ারিশরা মালিকানা ফিরে পেয়েছেন। এরপর তিনি ওই ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করেন এবং তাদের কাছ থেকেই জমির দখল বুঝে নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন।
কাফির ভাষ্য,
"আমি কোনোভাবেই প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করিনি। প্রকৃত মালিকের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।"
আইনি জটিলতা ও প্রশাসনের ভূমিকা
জমিটি নিয়ে দুই পক্ষের দাবি পরস্পরবিরোধী হওয়ায় বিষয়টি এখন আইনি ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করছে। যদি জমিটি সত্যিই সরকারি রেকর্ডভুক্ত বিদ্যালয়ের সম্পত্তি হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে কোনো ব্যক্তি রাস্তা নির্মাণ করতে পারেন না। আবার যদি আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী মালিকানা পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ভূমি ও শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জমির মালিকানা, আদালতের রায়, রেকর্ড ও নামজারির নথি যাচাই করেই প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

