রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা বিপুল অর্থের মধ্যে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (এফডিআর) করা, কয়েক ডজন শিক্ষককে বদলি ও কর্মস্থল পরিবর্তন, গভর্নিং বডিতে শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিত্ব, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ এবং অ্যাডহক কমিটির প্রশাসনিক ভূমিকা—এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের মতো একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। কোন সিদ্ধান্ত কোন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, কার অনুমোদন রয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে কী নথি রয়েছে—এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিরাপত্তা, অধিক সুদ পাওয়া, ব্যাংকিং সুবিধা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৪৪ কোটি টাকার এফডিআর নিয়ে যত প্রশ্ন
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করার উদ্যোগকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এত বড় অঙ্কের অর্থ কোন কোন ব্যাংকে রাখা হচ্ছে, ব্যাংক নির্বাচন কীভাবে করা হয়েছে এবং এফডিআরের সিদ্ধান্তটি গভর্নিং বডির কোন সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রায়ত্ত তফসিলি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থাকা সত্ত্বেও কেন বিপুল অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ।
তাদের আরও দাবি, অতীতে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ রাখার পর অর্থ উত্তোলনসহ নানা জটিলতার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে রাখা অর্থ নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি তফসিলি ব্যাংকে অর্থ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তাদের ভাষ্য।
কিন্তু নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নাম আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগকারীদের মূল প্রশ্ন হলো—ব্যাংক নির্বাচন কি শুধুই সর্বোচ্চ সুদের হার বিবেচনায় করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো বিষয়ও বিবেচনায় ছিল? কোন ব্যাংক কত সুদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, কত টাকা কত মেয়াদে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কমিটির রেজুলেশনে কী উল্লেখ রয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অধ্যক্ষের বক্তব্য কী?
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, ৪৪ কোটি টাকা কোনো একটি ব্যাংকে রাখা হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের হার বিবেচনা করেই এফডিআর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সঞ্চয়ী হিসাবে অর্থ রাখলে তুলনামূলক কম মুনাফা পাওয়া যায়। অন্যদিকে এফডিআরে বেশি সুদ পাওয়া যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা ব্যাংক ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রায় ৮ শতাংশ এবং অন্য কিছু ব্যাংক প্রায় ৭ শতাংশ সুদের প্রস্তাব দিয়েছে।
অধ্যক্ষ আরও জানান, অগ্রণী ব্যাংকেও প্রতিষ্ঠানের অর্থ রাখা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেখানে অর্থ রাখা হবে।
অর্থাৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক নির্বাচন করা হয়েছে মূলত প্রতিষ্ঠানের অর্থের সর্বোচ্চ আর্থিক সুবিধা ও নিরাপত্তা বিবেচনায়।
অভিভাবক প্রতিনিধি ব্যাংক কর্মকর্তা হওয়ায় স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন
এফডিআর নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের একজন অভিভাবক প্রতিনিধি একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হওয়ায় নতুন করে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সঙ্গে একটি বড় অঙ্কের অর্থের মালিক প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক প্রতিনিধি হন, তাহলে ব্যাংকে অর্থ রাখার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ঢাকা ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ রাখার সিদ্ধান্তে ওই প্রতিনিধির কোনো ভূমিকা ছিল কি না—তা প্রকাশ করার দাবি উঠেছে।
তবে কেবল একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলেই স্বার্থের সংঘাত প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত ভূমিকা, রেজুলেশন এবং আর্থিক প্রক্রিয়ার নথি পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরু বলেন, প্রতিষ্ঠানের সব টাকা ঢাকা ব্যাংকে নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, ব্যাংকিং সুবিধা, অর্থের নিরাপত্তা এবং প্রচলিত নিয়মকানুন বিবেচনা করেই বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
কয়েক ডজন শিক্ষক বদলি, উঠেছে পক্ষপাতের অভিযোগ
আর্থিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি ও কর্মস্থল পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, কয়েক ডজন শিক্ষককে বিভিন্ন শাখায় বদলি বা দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষককে বাসা থেকে তুলনামূলক দূরের শাখায় পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন নারী শিক্ষকের সকাল ও দিবা শিফট পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, শিক্ষক বদলি বা দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস যদি প্রশাসনিক প্রয়োজন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষক নির্বাচন ও শাখা নির্ধারণে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে? সেই মানদণ্ড কি সব শিক্ষকের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে?
অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ জুলাই বর্তমান অ্যাডহক কমিটি গঠনের পরদিনই শিক্ষক বদলির তালিকা তৈরি করা হয়।
তবে অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বিষয়টিকে শুধু বদলি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ জন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে এবং বাকিদের একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সকাল ও দিবা শিফটে দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।
গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরুও শিক্ষক বদলির অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্মস্থল সমন্বয় করা হয়েছে। কোথাও শিক্ষক বেশি ছিল, আবার কোথাও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট ছিল। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রায় ৪৩ থেকে ৪৪ জন শিক্ষকের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের জন্য ১৪ লাখ টাকার অফিস?
অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যানের জন্য প্রতিষ্ঠানে আলাদা অফিস তৈরিতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, চেয়ারম্যান সেখানে নিয়মিত বসেন এবং তার জন্য ব্যক্তিগত সহকারী বা সহায়ক কর্মী ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরু।
তার দাবি, কথিত অফিসটি তার ব্যক্তিগত অফিস নয়। আগের কমিটির সময়ই ওই কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি মূলত গভর্নিং বডির সভাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তিনি বলেন, তার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে ওই কক্ষ তৈরি করা হয়নি। গভর্নিং বডির সভা ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্য কক্ষটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদও বলেন, এটি বড় কোনো অফিস নয়; ছোট একটি কক্ষ। চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানে এলে বসার জন্য একটি জায়গা থাকা স্বাভাবিক।
এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয় কত, কক্ষটি কখন নির্মাণ করা হয়েছে এবং কোন অর্থের খাত থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে—সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ হলে অভিযোগটির বাস্তব ভিত্তি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব নিয়েও অসন্তোষ
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ৭০০ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এত বড় জনবল কাঠামোর প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষক সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশ।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির সব শিক্ষক-কর্মচারীর মতামত ও স্বার্থ গভর্নিং বডিতে তুলে ধরার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক শিক্ষক বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে শিক্ষক প্রতিনিধির অবস্থান কী ছিল, তা নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে গভর্নিং বডির সভার কার্যবিবরণী, শিক্ষক প্রতিনিধির মতামত এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক পদে না থেকেও প্রভাবের অভিযোগ
প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কোনো পদে না থেকেও একজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষক বদলি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কাজী তৌহিদুর রহমানের ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের একাংশ দাবি করেছেন।
তবে কাজী তৌহিদুর রহমান অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তিনি একজন ঠিকাদার এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো পদে নেই। একবার অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচন করলেও তিনি নির্বাচিত হননি। নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন না এবং গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বা ব্যক্তিগত সহকারীও নন বলে দাবি করেন তিনি।
গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরুও তাকে নিজের পিএস বা উপদেষ্টা হিসেবে থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
কর্মচারী নিয়োগেও প্রশ্ন
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের জন্য মাত্র সাত দিন সময় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন—সবকিছুর জন্য সাত দিনের সময়সীমা যথেষ্ট কি না।
এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগবিধি, প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা এবং অ্যাডহক কমিটির নিয়োগসংক্রান্ত ক্ষমতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানের দুবারের নির্বাচিত সাবেক অভিভাবক সদস্য মো. শাহাদাৎ ঢালী অভিযোগ করেন, অ্যাডহক কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তার দাবি, আগের কমিটির সময়ে প্রায় দুই বছর কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমান কমিটি স্বল্প সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তবে তার এসব অভিযোগের বিপরীতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
মূল প্রশ্ন এখন নথি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাম্প্রতিক আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করা। কোন ব্যাংকে কত টাকা এফডিআর করা হয়েছে, কত সুদে এবং কত মেয়াদে অর্থ রাখা হয়েছে, ব্যাংক নির্বাচনের প্রস্তাবগুলো কী ছিল, গভর্নিং বডির রেজুলেশনে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে—এসব তথ্য সামনে এলে আর্থিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
একইভাবে শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে অনুমোদিত তালিকা, বদলির কারণ, শাখাভিত্তিক শিক্ষক চাহিদা এবং দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের লিখিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হলে পক্ষপাতের অভিযোগেরও যাচাই সম্ভব।
কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি, আবেদনকারীর সংখ্যা, বাছাইয়ের মানদণ্ড, নিয়োগ কমিটির কার্যবিবরণী এবং অনুমোদনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হলে নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও প্রশাসনে জবাবদিহি জরুরি
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল সম্পদ হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আস্থা। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক বদলি কিংবা কর্মচারী নিয়োগ—যে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই তাই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও নথিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের বক্তব্য দিয়েছে। এখন অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে গভর্নিং বডির রেজুলেশন, ব্যাংকিং নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং প্রশাসনিক আদেশ পর্যালোচনা করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী করা যায় না। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করাও প্রতিষ্ঠানের জন্য আস্থার সংকট দূর করার কার্যকর উপায় হতে পারে।

