টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ভিডিওবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ব এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় আর বিলম্ব না করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সব দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এসডিজি অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জন কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা সম্ভব নয়। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ভিডিওবার্তায় তিনি এসডিজি বাস্তবায়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথাও তুলে ধরেন।
কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তার বক্তব্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, জ্ঞান ভাগাভাগি এবং যৌথ উদ্যোগকে এসডিজি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন-অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার সমাধান দ্রুত করা সম্ভব। তাই এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
এদিকে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও বৈশ্বিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গসমতা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
এসডিজির প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অর্থায়ন, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওবার্তায়ও এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে এই সম্মিলিত দায়িত্ব ও অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া তার এই বক্তব্য আসন্ন সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের আগে টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

