ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত দুই দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকেই তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরো সফরটি ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কূটনৈতিক মুহূর্ত

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে যাচ্ছে। কারণ, ইউএনজিএ-৮১-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর এমন এক বিরল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতি—উভয়েই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সফরকালে জাতিসংঘের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন।

এছাড়া সফরকালে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সংবর্ধনা

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সফর উপলক্ষে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে একাধিক ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক নিউইয়র্কে সমবেত হবেন। প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে বড় পরিসরে একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।

প্রায় দুই দশক পর যুক্তরাষ্ট্র সফর

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় নেতাদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে এই সফর।

সরকারি প্রস্তুতি চলছে

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাবেন। তবে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

তিনি বলেন, সফরসূচি, বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু অর্থায়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা, অভিবাসন, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ধারাবাহিকতায় নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়

সরকার গঠনের পর গত ২১ থেকে ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।

সেই সফরে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, করিডোর স্থাপন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েকটি দেশ থেকে সফরের আমন্ত্রণ এলেও জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী অন্য কোনো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন না।

কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়াচ্ছে ইউএনজিএ-৮১

পররাষ্ট্র বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু সংকট, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং উন্নয়ন অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এবারের অধিবেশনে প্রাধান্য পাবে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!