নওগাঁর পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশের দাবি। এ সময় তার এক সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ১ নম্বর নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর দিকনির্দেশনায় পোরশা থানার মাদকবিরোধী অভিযান চলছিল। এর অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী ডাঙ্গাপাড়াগামী ইটের রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, অভিযান পরিচালনাকালে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে শীতলী ডাঙ্গাপাড়াগামী সড়কের একটি ব্রিজ/কালভার্টের ওপর মাদক বিক্রির সময় মো. জহুরুল ইসলাম (৪৩)-কে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি শীতলী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও একজন সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
৬৫ পিস টাপেন্টাডল উদ্ধার
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জহুরুল ইসলামের শরীর তল্লাশি করে তার বুক পকেটে থাকা গুলের কৌটার ভেতর থেকে ৩০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সহযোগী আসামির ফেলে যাওয়া মোড়ানো অবস্থায় আরও ৩৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সব মিলিয়ে ৬৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যার মোট ওজন ১৭ দশমিক ৫৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বিক্রয়মূল্য ১৯ হাজার ৫০০ টাকা, উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মাদক জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাইসহ আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জহুরুল ইসলাম এবং পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত
পোরশা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে।

