চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া আফতাব মজুমদার জয় এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে নগরীর হালিশহর থানাধীন বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সবুজ মাহমুদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
ফেসবুকে পরিচয়, পরে প্রেমের সম্পর্ক
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফতাব মজুমদার জয়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
একপর্যায়ে আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তিনি অভিযুক্তের ওপর আস্থা রাখেন।
হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার সুইট প্যালেস নামে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আফতাব।
পরে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্ত নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরে জানা যায় অভিযুক্ত বিবাহিত
ভুক্তভোগী পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, আফতাব মজুমদার জয় আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। এরপর নিজেকে প্রতারণার শিকার দাবি করে গত ১৯ জুলাই চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের বক্তব্য
চান্দগাঁও থানার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজ মাহমুদ বলেন, "ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার তদন্তে ডিজিটাল তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

