ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা ৬৫ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা ৬৫ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযান

ছবিঃ সংগৃহীত

শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে দুবাই থেকে আগত এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৩৫ কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নম্বর বিজি-১৪৮-এ চট্টগ্রামে আসেন যাত্রী মোহাম্মদ সোহেল। আগে থেকেই তার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকায় বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল তাকে নজরদারিতে রাখে।

পরবর্তীতে যাত্রীর সঙ্গে থাকা তিনটি ব্যাগেজ তল্লাশি করা হলে সেগুলোর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল মন্ড (Mond) ব্র্যান্ডের ১৫০ কার্টন এবং এসে লাইটস (Esse Lights) ব্র্যান্ডের ৮৫ কার্টন সিগারেট। সব মিলিয়ে মোট ২৩৫ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, এসব সিগারেটের জন্য প্রযোজ্য শুল্ক ও কর পরিশোধ করা হয়নি। ফলে পণ্যগুলো শুল্ক আইন লঙ্ঘন করে দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জব্দ করা সিগারেটগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম আইসিডি কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত সিগারেটের শুল্ক-করসহ আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। এসব পণ্যের ওপর মোট করভার প্রায় ৬২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা পরিশোধ না করেই পণ্যগুলো দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রী ব্যাগেজের আড়ালে বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও অন্যান্য উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য চোরাচালানের প্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত পণ্যের উৎস, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!