ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টে নানা অপশক্তির চক্রান্ত: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টে নানা অপশক্তির চক্রান্ত: রিজভী

ছবিঃ সংগৃহীত

নানা ধরনের অপশক্তি ও চক্রান্তকারীরা বারবার দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন রয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।

‘অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে’

রিজভী বলেন, দেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। নানা সময়ে বিভিন্ন অপশক্তি ও চক্রান্তকারী এই সম্প্রীতির বন্ধন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্যের কারণে তারা সফল হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ করি।’

তার মতে, ধর্মীয় উৎসব শুধু নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের বিষয় নয়; বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় এসব উৎসব পারস্পরিক আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ক্ষেত্র তৈরি করে।

সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতের দাবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অবস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে আসছে। তার দাবি, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

রিজভী বলেন, ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখভালের জন্য হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক দায়িত্বের কথা

দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তার ভাষায়, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজেদের নিরাপত্তাহীন বা বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। একে অপরের সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়া এবং ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা বিনিময়ের যে সংস্কৃতি রয়েছে, সেটিই বাংলাদেশের সামাজিক বন্ধনের অন্যতম শক্তি।

জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা

এর আগে সকালে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জিয়া উদ্যানে যান রিজভী। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সাম্প্রতিক সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় রিজভী ধর্মীয় বিভাজন ও বিদ্বেষ সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সম্প্রীতির সংস্কৃতি ধরে রাখার আহ্বান

রিজভীর বক্তব্যে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন দীর্ঘদিনের।

তার মতে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অন্যের ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি করেছেন, সেটিকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অপপ্রচার, উসকানি ও বিভাজন সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার কথাও বলেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!