ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

জামায়াতে অন্যায়ের কোনো জায়গা নেই, নৈতিকতার প্রশ্নে ছাড় নয়: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

জামায়াতে অন্যায়ের কোনো জায়গা নেই, নৈতিকতার প্রশ্নে ছাড় নয়: ডা. শফিকুর রহমান

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অন্যায় একসঙ্গে চলতে পারে না। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।" দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। ন্যায়নীতি, জবাবদিহিতা ও আদর্শিক অবস্থান বজায় রেখেই জামায়াত রাজনীতি করতে চায়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৈতিকতা ও আদর্শে আপসহীন থাকার আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু সাংগঠনিক বিস্তারে নয়, বরং তার নৈতিক অবস্থানেও নির্ভর করে। তাই জামায়াতের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, "ভুলত্রুটি যে কারও হতে পারে। তবে কোনো অনিয়ম বা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কেউ ভুল করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ধরিয়ে দিতে হবে এবং সংশোধনের সুযোগ করে দিতে হবে।"

গণভোট ও সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন

সম্মেলনে গণভোটের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যদি গণভোটকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা হলে তা রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়াবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারের সাংবিধানিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

জুলাই জাদুঘর চালুর দাবি

ডা. শফিকুর রহমান জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ঘোষিত ‘জুলাই জাদুঘর’ এখনো চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং যথাযথ সম্মান দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেশীদের সতর্কবার্তা

দেশের সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সীমান্তে অযৌক্তিক উত্তেজনা বা আগ্রাসী আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। পারস্পরিক সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই সীমান্ত সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত।

নেতাকর্মীদের প্রতি বার্তা

সম্মেলনের শেষাংশে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে জনগণের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ হচ্ছে নৈতিকতা, সততা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড। ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!