ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

রাষ্ট্রপতি কি পদত্যাগ করছেন? গুঞ্জনে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

রাষ্ট্রপতি কি পদত্যাগ করছেন? গুঞ্জনে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন

ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন—এমন একটি গুঞ্জন বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই সামাজিকমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া এ খবরে অনেকেই ধরে নিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। তবে রাত পর্যন্ত সরকার কিংবা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গুঞ্জনের সূত্রপাত হয় প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। একই পোস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও সম্ভাব্য পছন্দের তালিকায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহল, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা—রাষ্ট্রপতি সত্যিই কি পদত্যাগ করছেন, নাকি এটি ভিত্তিহীন গুঞ্জন?

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। একইভাবে বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা অবগত নন এবং এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত পর্যন্ত সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা বঙ্গভবনের প্রেস উইং থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

স্বাস্থ্যগত কারণেই কি গুঞ্জনের সূত্র?

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলোও এই গুঞ্জনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সফরে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল।

পরে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলোআপ পরীক্ষার সময় তার হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে কয়েকদিন থাকার পর তিনি দেশে ফেরেন।

তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক।

আগেও পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নতুন নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।"

কেন এমন ইচ্ছা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার ভালো লাগে না।"

সে সময় তিনি বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করায় নিজেকে অপমানিত মনে করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আবারও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ওয়াকআউট করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত নয়

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকার বা বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচিত হবে।

বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!