ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

‘জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’-নুরুল হক নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

‘জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’-নুরুল হক নুর

ছবিঃ সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে জামায়াতকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, “দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

‘বাইরে সরকারবিরোধী, ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা’

নুরের দাবি, একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিলেও পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “বাইরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে এমন পরিস্থিতি দেশের জন্য শুভ নয়।”

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে নুর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে।

তার ভাষায়, “পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত, বিসিএস ক্যাডারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থী ব্যক্তিদের পদায়নের অভিযোগ রয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতার জন্য উদ্বেগজনক।”

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করা হয়েছে’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল হক নুর বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে জামায়াতই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।

তিনি বলেন, “অনেক আসনের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের কোনো মিল ছিল না। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।”

‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের একটি অংশ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন নুর।

তিনি বলেন, “জামায়াতকে যারা সমর্থন করেন, তারা জামায়াতেই আছেন। কিন্তু নতুন করে যদি আরেকটি প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বিদেশি শক্তির ভূমিকাও তুলে ধরেন নুর

আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিদেশি পক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, “জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের উত্থানের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

নুর বলেন, “জামায়াতের উত্থান হলে আগামী দিনে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।”

আলোচনা সভায় উপস্থিতি

গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!