ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সাদমানের ফিফটির পর শান্তর বিদায়, চাপে বাংলাদেশ

ক্রিয়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

সাদমানের ফিফটির পর শান্তর বিদায়, চাপে বাংলাদেশ

ছবিঃ সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মিরপুরে ব্যাটিংয়ে লড়াই করছে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ব্যাট হাতে নিজের দৃঢ়তা দেখিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক পূর্ণ করেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে তাঁর ফিফটির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের ওভারেই স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি তিনি। শান্তর বিদায়ে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

সাদমানের দশম টেস্ট ফিফটি

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে পেসারদের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি ছিল। গতি ও সুইং কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা। তবে শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে নিজেদের ইনিংস গুছিয়ে নেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ২ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। বিরতির পর মাঠে ফিরে পঞ্চম ওভারে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাদমান ইসলাম। ৯৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করা বাঁহাতি এই ওপেনার ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি মারেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দশম অর্ধশতক এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটি।

সাদমানের ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণের ছাপ। একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে অধিনায়ক শান্তর উইকেট হারানোয় বড় জুটি গড়ার আশা ধাক্কা খায় বাংলাদেশের।

ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ শান্ত

সাদমানের ফিফটির পরের ওভারেই বাংলাদেশের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। তাঁর হালকা বাঁক নেওয়া বল সুইপ করতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান শান্ত। শুরুতে আম্পায়ার তাঁকে আউট দেননি। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোস্টন চেজ রিভিউ নিলে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি মিডল ও লেগ স্টাম্পে আঘাত করত।

ফলে ৪২ বলে ১৬ রান করে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে। শান্তর বিদায়ে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর আউট বাংলাদেশের জন্য চাপ তৈরি করে।

মুমিনুলের বিদায়ে ভাঙে ৫৯ রানের জুটি

এর আগে দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলাম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক ৫৯ রানের জুটি গড়েন। শুরুতে দুজনই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করছিলেন। এই জুটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ।

তবে ধৈর্য ধরে খেলতে থাকা মুমিনুল একপর্যায়ে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান। হাওয়ায় ভাসানো বল ক্রিজ ছেড়ে মিড-অফের ওপর দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাটে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় বলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডার শামার জোসেফের নাগালের বাইরে নিতে পারেননি। ৫১ বলে ২৮ রান করে ফেরেন মুমিনুল। তাঁর বিদায়ে ভেঙে যায় সাদমানের সঙ্গে গড়ে ওঠা গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

শুরুতেই তানজিদের বিদায়

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটাও স্বস্তির ছিল না। দলীয় ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেইডেন সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাভার দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা জাস্টিন গ্রিভস সহজেই ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ।

প্রথম উইকেট পতনের পর সাদমান ও মুমিনুলের জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা স্থিতি এনে দেয়। কিন্তু মুমিনুলের বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

স্পিন-পেসের মিশ্র আক্রমণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুরের উইকেটে ম্যাচের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা গতি ও সুইং দিয়ে সুবিধা আদায় করেন। পরে স্পিনাররাও উইকেট থেকে টার্ন পেতে শুরু করেন। পেস ও স্পিনের সমন্বিত আক্রমণে বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়মিত পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

সাদমান একপ্রান্তে টিকে থেকে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছেন। তবে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোয় বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইনিংসকে স্থিতিশীল করা এবং প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে কার্যকর জুটি গড়ে তোলা।

সাদমানের অর্ধশতক বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হলেও শান্তর বিদায় ম্যাচের পরিস্থিতিকে আবারও কঠিন করে তুলেছে। প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে পরবর্তী ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে বাংলাদেশকে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!