ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সাঘাটায় গণকবরস্থান ও মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: খ ম মিজানুর রহমান রাঙ্গা

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

সাঘাটায় গণকবরস্থান ও মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন

ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকায় গণকবরস্থান এবং প্রস্তাবিত মাদ্রাসা-মসজিদের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জমি দখলের চেষ্টা, সীমানার কংক্রিটের খুঁটি উপড়ে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয় একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহেদুল ইসলাম।

শনিবার (৩০ আগস্ট) উপজেলার শিমুলতাইড় এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

১০৬ শতাংশ জমি দানের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় এলাকায় গণকবরস্থান এবং প্রস্তাবিত ওসমান (রা.) কওমি মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে তিনটি দলিলে মোট ১০৬ শতাংশ জমি দান করা হয়েছে।

এর মধ্যে প্রস্তাবিত মসজিদের জন্য নির্ধারিত অংশে প্রায় ৪০টি কংক্রিটের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে গণকবরস্থান ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হলেও সম্প্রতি একটি পক্ষ ওই জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।

কংক্রিটের খুঁটি উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে মো. জাহেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ৭ আগস্ট প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকার মির্জা জুলফিকার হায়দার তারেক ও তাঁর সহযোগীরা ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে তারা জমির সীমানা নির্ধারণে স্থাপন করা কংক্রিটের খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলে নিয়ে যান এবং জমিতে জোরপূর্বক ধান রোপণের চেষ্টা করেন।

এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অবশিষ্ট সীমানার খুঁটি রক্ষার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে ওই জমিতে ধান রোপণ না করার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগকারী জানান। তবে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর প্রতিপক্ষ আবারও জমি দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় বাধা দেওয়া হলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন জাহেদুল ইসলাম।

জমি নিয়ে আদালতে মামলার তথ্য

অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তফসিলভুক্ত জমির ৯ শতাংশ অংশ নিয়ে আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা চলমান ছিল। মামলাটির নম্বর ৭৪/১০। তাদের দাবি, মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে মির্জা জুলফিকার হায়দার আবেদন করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

পরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নতুন মামলা করা হয় বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।

তাদের দাবি, আদালত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তের জন্য সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আদালতের এমন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ

গণকবরস্থান ও মাদ্রাসা-মসজিদের জন্য নির্ধারিত জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত আইনগত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় এ নিয়ে এলাকায় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তবে জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবির বিষয়ে আদালতের নথি ও ভূমি রেকর্ডের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

থানায় অভিযোগ, তদন্ত করছে পুলিশ

ঘটনার বিষয়ে সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সাঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে, অভিযোগে অভিযুক্ত মির্জা জুলফিকার হায়দার তারেক ও তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে জন্য দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখল-সংক্রান্ত বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!