ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান, সংসদে পাস সংশোধিত আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১০:০১ এএম

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান, সংসদে পাস সংশোধিত আইন

ছবিঃ সংগৃহীত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার ও লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। পরে বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে এটি পাস হয়।

ডিজিটাল মাধ্যমেই অপরাধের বিচার

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা যোগাযোগ করেন কিংবা করার চেষ্টা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) ব্যবহার করে মাদক লেনদেন করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

মাদক উদ্ধার না হলেও বিচার সম্ভব

আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, অনলাইন যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

সংঘবদ্ধ অপরাধে আরও কঠোর ব্যবস্থা

বিলে বলা হয়েছে, যদি এ ধরনের অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন।

এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, সাইবার অ্যাকাউন্ট, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদালতের আদেশে ব্লক, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাবে।

ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিধান

মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর করতে বিলে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং মাদক ও চোরাচালান শনাক্তে বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের আইনি ভিত্তিও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলেও ছাড় নয়

বিলের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের অপরাধে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!