মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে স্মৃতি আক্তার নামে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাতের কব্জির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সায়ন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর গুরুতর আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘরে ঢুকেই তরুণীর ওপর হামলার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে সায়ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সেলিম হোসেনের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর হামলা চালান।
এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্মৃতির ডান হাতে কোপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার ডান হাতের কব্জির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় স্মৃতি চিৎকার শুরু করলে পাশের কক্ষ থেকে তার বাবা-মা ছুটে আসেন। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারী তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে সেলিম হোসেন ও তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকার ও আহতদের আর্তনাদে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সায়ন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত স্মৃতি আক্তার, তার বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কী কারণে হামলা, জানে না পুলিশ
এ ঘটনায় হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিচয় বা অন্য কোনো কারণে এ হামলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযুক্ত সায়ন মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘লর্ড মার্কেট এলাকায় একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সায়নকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। হামলার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

