প্রতি মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ, কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদসহ নানা অভিযোগ তুলে ‘আজকের দেশ ডট কম’-এ প্রকাশিত একটি সংবাদকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে দাবি করেছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)। গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদে বলা হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদে কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত কিছু আপত্তিকর শব্দ এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের কোনো বাস্তবভিত্তি নেই বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়েছে, একটি অসাধু চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে ওই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট।
‘প্রতিমাসে ১০ কোটি টাকা ঘুষ’—তথ্যটি কাল্পনিক
প্রকাশিত প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুতর অভিযোগ হিসেবে প্রতিমাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবাদে বলা হয়েছে, এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের ভাষ্য, রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মতো অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন কোনো যাচাইযোগ্য ভিত্তি ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।
পরিবারের সদস্যদের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন
প্রতিবাদে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের নামেও মনগড়া ও মিথ্যা সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শুধু কর্মকর্তারাই নন, তাদের পরিবারের সদস্যদেরও সামাজিকভাবে হেয় করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হলে নির্ভরযোগ্য নথি, সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য ও যাচাইযোগ্য উৎসের ভিত্তিতে তা উপস্থাপন করা উচিত। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের সম্পদ সম্পর্কে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সততা নিয়েও ‘অপপ্রচার’
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের প্রতিবাদে বলা হয়েছে, একই প্রতিবেদনে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই না করে এমন বক্তব্য প্রকাশ করায় তাদের পেশাগত মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘অসাধু চক্রের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা’
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকাশিত সংবাদ সেই অপপ্রচারের অংশ কি না—এমন প্রশ্নও তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে প্রতিবাদে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে কোনো পক্ষ যেন ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান
প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট।
প্রতিবাদে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়—এমন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট বলছে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা উচিত।
তীব্র নিন্দা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ
সবশেষে ‘আজকের দেশ ডট কম’-এ প্রকাশিত ৪ সেপ্টেম্বরের সংবাদকে ‘মনগড়া, ভিত্তিহীন ও অসত্য’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা যাচাই করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

