ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত পুলিশ সদস্য চিহ্নিত: আইজিপি

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত পুলিশ সদস্য চিহ্নিত: আইজিপি

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশের এক শতাংশেরও কম কর্মকর্তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে তারা চিহ্নিত হয়েছেন। একই সঙ্গে কিছু সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধেও সরকারকে চাপে ফেলতে ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্যই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে পুলিশের মধ্যে এক শতাংশেরও কম কর্মকর্তা অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ পুলিশে এক পারসেন্টের কম অফিসার খারাপ। এরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এই অসৎ পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’’

সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়েও অভিযোগ

আইজিপি একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন। তার অভিযোগ, কিছু ‘হলুদ সাংবাদিক’ সরকারকে চাপে ফেলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান আইজিপি।

তবে সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টকে ‘গুজব’ বা ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তথ্যের উৎস, প্রমাণ ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন।

শিশু নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য

দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন আইজিপি। তিনি দাবি করেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা অতীতেও ছিল। তবে বর্তমানে এসব ঘটনা গণমাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

আইজিপির ভাষ্য, শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮৭ শতাংশ শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি এ বিষয়টিকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হলেও প্রতিটি নিখোঁজের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং পরিবারের অভিযোগ দ্রুত আমলে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদক ও ছিনতাইকারীদের নিয়ে উদ্বেগ

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। সেখানে তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন।

আইজিপি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হলেও আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকরের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা জামিনে বের হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কিশোর অপরাধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেন। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।

অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

আইজিপির বক্তব্যে পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, শিশু নিখোঁজ, মাদক ব্যবসা ও কিশোর অপরাধ—একাধিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য যাচাই, দ্রুত তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ করে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র বা অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মতো সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আইজিপির বক্তব্যের পর এখন চিহ্নিত কথিত অসৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!