ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

বগুড়ার যুবককে পায়ের রগ কেটে হত্যা, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

বগুড়ার যুবককে পায়ের রগ কেটে হত্যা, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার সদর উপজেলায় শামিম হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, রাতভর নির্যাতনের পর হত্যা

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এক নিকটাত্মীয়ের দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শামিম বারপুর এলাকায় গিয়েছিলেন। রাতে তিনি ওই এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন।

স্বজনদের দাবি, আটকের পর শামিমকে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এবিএম শাফি বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

‘চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা’

পুলিশের ভাষ্য অবশ্য ভিন্ন। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, কারা এতে জড়িত এবং হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

শামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে নিহতের স্বজনরা নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে স্বজনরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী

একজন যুবককে চোর সন্দেহে আটক করে নির্যাতনের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!