ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, পুরস্কার সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, পুরস্কার সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ কারণে অবৈধ ও বিভিন্ন সময়ে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশকে বিশেষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে বিশেষ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ কাজে যারা নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন, তাদের উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ নজর

ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন এবং পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র যাতে অপরাধীদের হাতে না থাকে এবং লুট হওয়া অস্ত্র যাতে দ্রুত উদ্ধার করা যায়, সে জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে আরও সক্রিয় করা হবে।

বিশেষ ইউনিট গঠনের মাধ্যমে অস্ত্রের তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্ত, উদ্ধার অভিযান এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের কাজ আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার

অস্ত্র উদ্ধারে জনসাধারণের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পুরস্কার ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ বা লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

তবে তথ্যদাতাদের পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ ধরনের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অস্ত্রের অবস্থান, মালিকানা বা ব্যবহার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা যথাযথ মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানানো হবে।

অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ

সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা উঠে আসে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অপরাধ প্রতিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উদ্ধার?

অবৈধ অস্ত্র অপরাধ সংঘটন, সহিংসতা ও জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। অপরাধীদের হাতে থাকা অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অবৈধ অস্ত্রের উৎস শনাক্ত ও অস্ত্র উদ্ধার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ কারণে নতুন বিশেষ ইউনিট গঠন এবং তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংক্ষেপে: অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!