ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগ অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগ  অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির  অভিযোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মী এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতার পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে একজন প্রার্থীকে এক ইউনিয়নের পরিবর্তে অন্য ইউনিয়নে নির্বাচিত করা, একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে নির্বাচিত করা এবং প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর স্বজনদের নির্বাচিত করার অভিযোগও উঠেছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্বাচিতদের তালিকায় সুখানপুকুর ইউনিয়নের আল আমিনের নাম রয়েছে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের অন্যতম কর্মী ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সুপারভাইজার পদে ১৯২ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন।

এছাড়া মোরসেদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নেপালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ে শামীমা খাতুন এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সরুজ্জামানের মেয়ে মুমিনা আক্তারের নামও তালিকায় রয়েছে ।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একটি ইউনিয়নের প্রার্থীকে অন্য ইউনিয়নে নির্বাচিত করা হয়েছে। একই ব্যক্তিকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার দুই পদেই নির্বাচিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এমএলএসএসর এর স্ত্রী   এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের এক অফিস সহায়কের বোন নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

এদিকে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আরিফ হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট শক্তি , আত্মীয়তার সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব যেন কোনোভাবেই বিবেচনায় না আসে। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করার দাবি জানান। এ বিষয়ে দুর্গাহাটা ইউনিয়নের মুন্জুরুল হক বাদী হয়ে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দায়ের করে।

গাবতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছি। এ বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গাবতলী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চূড়ান্ত তালিকায় কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!