পাবনাকে দেশের বৃহত্তর যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে একটি ‘ওয়াই সিস্টেম’ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। একই সঙ্গে পাবনায় পূর্ণাঙ্গ ট্রেন চলাচল এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার দুপুরে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পাবনার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাবনাকে কেন্দ্র করে বৃহৎ যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ‘ওয়াই সিস্টেম’ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, “শিগগিরই পাবনায় পুরোদমে ট্রেন চলাচল শুরু হবে এবং পাবনা বিমানবন্দরও চালু করা হবে।” এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাবনার যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা অনেকটাই দূর হবে।
‘পকেট জেলা’ পরিচয় ঘুচবে
পাবনার ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে জেলাটি দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ছিল উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে পাবনার অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, পাবনার উন্নয়নে প্রস্তাবিত ‘ওয়াই সেতু’ এবং পদ্মা ব্যারেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রকল্প। এগুলো বাস্তবায়িত হলে পাবনা শুধু যোগাযোগের দিক থেকেই নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পরিণত হতে পারে।
তার ভাষায়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাবনার দীর্ঘদিনের ‘পকেট জেলা’ হিসেবে পরিচিতি ও মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই দূর হবে।
যোগাযোগ অবকাঠামো বদলাবে অর্থনীতির চিত্র
শিমুল বিশ্বাস বলেন, একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের সমন্বিত যোগাযোগ গড়ে উঠলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা, শিল্পের কাঁচামাল পরিবহন, নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহজ হবে।
পাবনায় রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও বিমানবন্দর চালুর পাশাপাশি বড় সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাদের ভাগ্য বদলের চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সঠিক পরিকল্পনা। বিগত পাঁচ শত বছরের বঞ্চনা আমরা এক দশকে বদলে দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ। এই সুবর্ণ সুযোগ আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগাতে হবে।”
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আলোচনা সভা
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলার মৎস্য খাতের সম্ভাবনা, উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় আরও বক্তব্য দেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান, এনএসআই পাবনার উপপরিচালক তৌফিক ইকবাল এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মৎস্য উৎপাদনে পাবনার রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
আলোচনা সভায় পাবনার সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জেলার সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

