ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

পাবনায় ‘কাবিন বাণিজ্য’ সিন্ডিকেটের অভিযোগ, সহযোগী অধ্যাপক মুরাদসহ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

পাবনায় ‘কাবিন বাণিজ্য’ সিন্ডিকেটের অভিযোগ, সহযোগী অধ্যাপক মুরাদসহ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনায় এক নারীর পূর্বের বিয়ে ও পাঁচ বছরের সন্তানের তথ্য গোপন রেখে বিয়ে এবং পরবর্তীতে কাবিনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম মুরাদের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পাবনার পুলিশ সুপার
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জে একটি আইসিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পরিচয়ের সূত্র ধরে ৩৫তম বিসিএসের কর্মকর্তা ও সরকারি টিচার্স মেমোরিয়াল কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেনকে পাবনার ঈশ্বরদীর ফারজানার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন সহযোগী অধ্যাপক মুরাদ। পরবর্তীতে পাবনায় নিয়ে কৌশলে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর ফারজানার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আরও ১৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার জন্য তোফাজ্জল হোসেনকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়।
তোফাজ্জলের দাবি, ফারজানা তার আগের বিয়ে ও পাঁচ বছরের সন্তানের বিষয়টি গোপন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় সহযোগী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম মুরাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তাকে নানা ধরনের চাপ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ফারজানার মা সোনালী খাতুনের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর এক পর্যায়ে এক পক্ষের জীবন ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর পেছনে সহযোগী অধ্যাপক মুরাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফারজানা নিজেকে অবিবাহিত দাবি করলেও তার পূর্বের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশ। পাবনার পুলিশ সুপার মো. ফুছি উজ্জামান অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক মুরাদ, ফারজানা ও তার মায়ের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ; সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!