নওগাঁর পোরশায় ডাসকো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় কন্যাশিশুর ইতিবাচক বিকাশ ও পরিবারে সহনশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে চার দিনব্যাপী ‘পজিটিভ প্যারেন্টিং’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ থেকে ১২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পোরশা উপজেলার সারাইগাছিতে ডাসকো প্রকল্প কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি ‘সহনশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সম্প্রদায় গঠনে নারী ও যুব নেতৃত্বাধীন সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপান্তর—এলআরপি-৫৭’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বিশেষভাবে কন্যাশিশুর মা-বাবাদের ইতিবাচক অভিভাবকত্ব, শিশুর মানসিক বিকাশ, পারিবারিক যোগাযোগ, শিশুর প্রতি সহনশীল আচরণ এবং নিরাপদ ও সহায়ক পারিবারিক পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের আত্মবিশ্বাস, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পরিবারকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হয়। এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রশিক্ষণে অভিভাবকদের বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক কৌশল ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
চার দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দুইটি ইউনিয়নের মোট ১০০ জন মা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।
প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন ডাসকো ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মানুয়েল টুডু এবং চাইল্ড স্পন্সরশিপ অ্যান্ড নেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার প্রার্থনা রানী হালদার।
প্রশিক্ষণে শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, শাসনের পরিবর্তে ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে সন্তানকে পরিচালনা করা এবং পারিবারিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারী মায়েরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ করা এবং তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে কীভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যায় সে বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবার থেকে শুরু করে বৃহত্তর সমাজে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে নারী ও যুব নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এ কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে।

