সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, জাপানের ২৬ বছর বয়সী এক যুবক কুকুরের মতো দেখতে ও জীবনযাপন করতে প্রায় ২২০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এমনকি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি নিজেকে কুকুরে রূপান্তরিত করেছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল এই দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই যুবক মানুষ থেকে কুকুরে রূপান্তরিত হয়েছেন—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল পোস্টগুলোতে ওই ব্যক্তির নাম ‘জাসো’ এবং বয়স ২৬ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, কুকুরের মতো দেখতে হওয়ার জন্য তিনি একাধিক অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। পরে কুকুরের মতো আচরণ ও জীবনযাপন শুরু করেছেন বলেও প্রচার করা হয়। বিপুল অর্থ খরচের এই দাবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেয়।

কিন্তু যাচাই করে দেখা যায়, ঘটনাটির সঙ্গে জাপানের কয়েক বছর আগের একটি আলোচিত ঘটনার মিল রয়েছে। সেখানে কোনো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষকে কুকুরে পরিণত করার ঘটনা ঘটেনি। বরং ওই ব্যক্তি জাপানের বিশেষ প্রভাব ও বিনোদন সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জেপেট’-এর তৈরি একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাক পরেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাকটি বর্ডার কোলি জাতের কুকুরের আদলে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এটি তৈরিতে প্রায় ২০ লাখ জাপানি ইয়েন খরচ হয়েছিল বলে জানা যায়। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য আনুমানিক ১১ থেকে ১৪ লাখ রুপির সমপরিমাণ। পোশাকটি তৈরি করতে প্রায় ৪০ দিন সময় লেগেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ভাইরাল পোস্টে দাবি করা ২২০ কোটি টাকা খরচ করে একজন মানুষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কুকুরে পরিণত হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না। ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিকে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য এ নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রথম থেকেই দাবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার অনেকে বিপুল অর্থ খরচের দাবির সমালোচনা করেছেন। তবে যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, মানুষকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জৈবিকভাবে কুকুরে রূপান্তরের কোনো ঘটনা এখানে নেই।
আসল ঘটনা কী?
ভাইরাল ভিডিওটি মূলত একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘটনা। পোশাকটির বাস্তবধর্মী নকশা ও ভিডিও উপস্থাপনার কারণে অনেকেই সেটিকে সত্যিকারের কুকুর ভেবে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
তাই ‘২২০ কোটি টাকা খরচ করে জাপানের যুবক মানুষ থেকে কুকুর হয়েছেন’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বাস্তবে এটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষকে কুকুরে রূপান্তরের ঘটনা নয়; বরং বিশেষভাবে তৈরি একটি কুকুরের পোশাকের ঘটনা।

