আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১২ নম্বর রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম আরিফের উদ্যোগে নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগা গ্রামের মায়ার বাজারে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে ভোগা গ্রামসহ আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
উঠান বৈঠককে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম’
উঠান বৈঠকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ উপস্থিতদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন নিবেদিত কর্মী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং এ সময় নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান তিনি।
‘জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই’
চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, তার একমাত্র লক্ষ্য স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর হাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং অবহেলিত ১২ নম্বর রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফ
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বিএনপির কাছে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাইবেন।
তিনি বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে এবং ইউনিয়নবাসী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করলে রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নকে একটি মডেল, নির্যাতনমুক্ত ও সুশাসিত ইউনিয়নে রূপান্তরের জন্য কাজ করবেন।
এ সময় তিনি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, এলাকার উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে স্থানীয় সরকার পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
উঠান বৈঠকে দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতি
উঠান বৈঠকে ভোগা গ্রাম ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম আরিফ তার নির্বাচনী প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন কথা শোনেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী পরিবেশও ধীরে ধীরে সরব হয়ে উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।

