ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

রাজস্ব আদায়ে নতুন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ: ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় কতটা বাস্তবসম্মত?

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

রাজস্ব আদায়ে নতুন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ: ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় কতটা বাস্তবসম্মত?

ছবিঃ সংগৃহীত

বছরের পর বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব না আসায় একদিকে বাড়ছে সরকারের অর্থায়নের চাপ, অন্যদিকে কর-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উঠছে না। এমন বাস্তবতায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

স্বাধীনতার পর অন্যতম উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার ও এনবিআর ইতোমধ্যে কর ফাঁকি শনাক্ত, বকেয়া রাজস্ব আদায়, আদালতে আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার, ভ্যাট ও উৎসে করের নজরদারি, অডিট দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের প্রশ্ন—রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বড় করলেই কি আদায় বাড়বে? নাকি করের আওতা বাড়ানো, প্রশাসনিক সক্ষমতা, অটোমেশন ও করদাতার আস্থা তৈরির মতো মৌলিক সংস্কার আগে নিশ্চিত করতে হবে?

লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের সঙ্গে তুলনা করলে নতুন লক্ষ্য প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকলেও এবার বিপুল প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে অর্থবছরের শুরু থেকেই এনবিআরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—বাড়তি রাজস্বের উৎস কোথায় এবং কীভাবে তা বাস্তবে আদায় করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানো, বকেয়া আদায় এবং দীর্ঘদিনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্বের নতুন উৎস তৈরি করা হবে।

কর ফাঁকি ধরতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রতিষ্ঠানে নজরদারি

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ভ্যাট খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাসে ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয় এবং কর ফাঁকির ঝুঁকি রয়েছে—এমন প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে বছরে এক কোটি টাকার বেশি ভ্যাট প্রদানকারী প্রায় ২ হাজার বড় করদাতার ওপর পৃথক নজরদারি চালিয়ে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু ভ্যাট ফাঁকি শনাক্ত করেই বড় অঙ্কের অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

তামাক, বকেয়া ও এডিপি থেকেও বাড়তি রাজস্ব

রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনায় তামাক খাতকেও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ খাত থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া—

বকেয়া রাজস্ব থেকে: প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে: প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা
অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি থেকে: প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা

অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অর্থনীতির গতি, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং করদাতাদের সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালতে আটকে ৮২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা

রাজস্ব আদায়ের অন্যতম বড় বাধা দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলমান মামলা। এনবিআরের হিসাবে, বিভিন্ন আদালতে মামলা থাকায় প্রায় ৮২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব আটকে রয়েছে।

এর মধ্যে—

আয়কর খাতে: প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
ভ্যাট খাতে: প্রায় ৩৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা
শুল্ককর খাতে: প্রায় ৯ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।

চলমান মামলার সংখ্যাও কম নয়। আয়কর খাতে প্রায় ৫ হাজার ৫০০, ভ্যাটে ১১ হাজার ৬৮৪ এবং শুল্ককর খাতে ১২ হাজার ৩৩৫টি মামলা রয়েছে বলে এনবিআরের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), বুক অ্যাডজাস্টমেন্ট, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সার্টিফিকেট মামলার মতো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বড় অঙ্কের রাজস্ব জড়িত প্রায় ৫০টি মামলাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।

অডিট জটও রাজস্ব আদায়ের বড় বাধা

রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে অডিট নিষ্পত্তির জট রয়েছে। এনবিআরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রায় ৬৬ হাজার করদাতার অডিট দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

দীর্ঘদিন অডিট ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের পাওনা নির্ধারণ ও আদায় বিলম্বিত হয়, অন্যদিকে করদাতারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। তাই অডিট ব্যবস্থাকে দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উৎসে করের ওপর বাড়ছে নজরদারি

রাজস্ব আহরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে উৎসে কর বা ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স (টিডিএস)। এ খাতে ফাঁকি বন্ধে এনবিআর মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে।

প্রয়োজনে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদ ও অন্যান্য আর্থিক নথি পরীক্ষা করতে পারবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার, ক্লাউড সার্ভার ও ডিজিটাল রেকর্ডে থাকা তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও রয়েছে।

প্রয়োজনে নথি বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতাও প্রয়োগ করা হতে পারে।

এনবিআরের ভাষ্য, এসব ক্ষমতা নতুন করে তৈরি করা হয়নি; বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। যারা উৎসে কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন না বা তথ্য গোপন করছেন, তাদের শনাক্ত করাই মূল লক্ষ্য।

‘রাজস্ব আদায়’ নাকি ‘হয়রানির নতুন সুযোগ’?

এনবিআরের নতুন মাঠপর্যায়ের তৎপরতা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যথাযথ অটোমেশন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি ছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হলে রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে হয়রানি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, টিডিএস বিষয়ে অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতার পর্যাপ্ত ধারণা নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এমন পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

তিনি আরও মনে করেন, কর ফাঁকি শনাক্তের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত; সরাসরি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কম্পিউটার বা সংবেদনশীল নথি জব্দ করার প্রবণতা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জোর

এনবিআর এবার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে তামাক খাতে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা এবং কারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

উৎপাদন থেকে সরবরাহ এবং বিক্রয় পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নজরদারি বাড়ানো গেলে রাজস্ব ফাঁকির বড় অংশ শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, করদাতা ও কর কর্মকর্তার সরাসরি যোগাযোগ যত কমানো যাবে, ঘুষ-দুর্নীতি ও হয়রানির সুযোগও তত কমবে।

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্য

রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের বড় লক্ষ্য হচ্ছে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করা।

মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামগ্রিক রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সময়ে এনবিআরের নিজস্ব কর রাজস্ব জিডিপির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে, পরবর্তী অর্থবছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

‘টিম এনবিআর’ দিয়ে কতটা সফল হবে উদ্যোগ?

রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের পারস্পরিক রেষারেষি ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ‘টিম এনবিআর’ হিসেবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মনোবল বাড়ানো, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু কর্মকর্তাদের সক্রিয় করলেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ রাজস্ব আহরণের কাঠামোগত দুর্বলতা, কর ফাঁকি, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, সীমিত করের আওতা এবং করদাতার সঙ্গে প্রশাসনের আস্থার সংকট দীর্ঘদিনের।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—করদাতা বাড়াতে হবে, ভয় দেখিয়ে নয়

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদের মতে, অর্থনীতির আকার বিবেচনায় সঠিকভাবে ভ্যাট আদায় করা গেলে বর্তমান সংগ্রহের তুলনায় অনেক বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। এর জন্য পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবিরও রাজস্ব সংস্কারে ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেটি যেন করদাতাকে হয়রানির হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থাৎ রাজস্ব বাড়ানোর সবচেয়ে টেকসই পথ শুধু অভিযান বা জরিমানা নয়; বরং করজাল সম্প্রসারণ, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানো, স্বচ্ছ অটোমেশন, তথ্য বিনিময় এবং করদাতার আস্থা অর্জন।

শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন একটাই

৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এনবিআর এখন একাধিক ফ্রন্টে কাজ শুরু করেছে। কর ফাঁকি শনাক্ত, বকেয়া আদায়, আদালতে আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার, অডিট জট কমানো, টিডিএস নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বছরের পর বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ভাঙতে হলে এবার শুধু বড় লক্ষ্য নয়, বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও দেখাতে হবে।

কারণ রাজস্ব আদায়ের নামে যদি করদাতার ওপর অতিরিক্ত চাপ, হয়রানি কিংবা অনিয়ম বাড়ে, তাহলে স্বল্পমেয়াদে কিছু রাজস্ব এলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও করদাতার আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত কর ফাঁকিবাজদের শনাক্ত করে করের আওতা বাড়ানো গেলে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য শুধু উচ্চাভিলাষী ঘোষণা না হয়ে বাস্তব রাজস্ব সংস্কারের পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!