ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

ঘোষণার চেয়ে ৬০% বেশি পোশাক আমদানি, কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:৩২ এএম

ঘোষণার চেয়ে ৬০% বেশি পোশাক আমদানি, কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ

ছবিঃ সংগৃহীত

আমদানি ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত পরিমাণের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি পোশাক এনে বিপুল অঙ্কের শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার একটি অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গোয়েন্দা অভিযানে ঘোষণাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ পোশাক জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় ৩১ লাখ ৭১ হাজার টাকার বেশি শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়েছে। জরিমানাসহ সরকারের আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

রোববার (২ আগস্ট) সিআইআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইআইডির সদর দপ্তরের একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল রাজধানীর ঢাকা কাস্টম হাউস এলাকায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এম/এস এস.বি. ট্রেডার্স-এর একটি পণ্যচালানের ওপর নজরদারি চালায়। পরে চালানটি খালাসের ঠিক আগে কায়িক পরীক্ষা (Physical Examination) করে ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে।

তদন্তে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই বিল অব এন্ট্রি নম্বর C-765485-এর মাধ্যমে চালানটি আমদানি করা হয়। আমদানিকারক ঘোষণাপত্রে মোট ২ হাজার ৬৯৯ পিস পোশাক আমদানির তথ্য দিলেও বাস্তবে কনটেইনারে পাওয়া যায় ৪ হাজার ৩১৯ পিস পোশাক। অর্থাৎ ঘোষণার তুলনায় অতিরিক্ত ১ হাজার ৬২০ পিস, যা প্রায় ৬০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

কাস্টমস গোয়েন্দার কায়িক পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের পোশাকের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য গরমিল ধরা পড়ে। ঘোষণায় যেখানে ২৯ পিস সাধারণ লেহেঙ্গা উল্লেখ ছিল, সেখানে পাওয়া যায় ৪৮ পিস। ১৩ পিস গর্জিয়াস লেহেঙ্গার পরিবর্তে পাওয়া যায় ৫০ পিস। ১১২ পিস প্রিমিয়াম শাড়ির বিপরীতে পাওয়া যায় ১২০ পিস। এছাড়া ১১২ পিস সুপার শাড়ির পরিবর্তে ৮০৩ পিস, ১৭৯ পিস মিডিয়াম শাড়ির স্থলে ৯০০ পিস, ১২৮ পিস গার্লস ওয়্যার সেটের পরিবর্তে ১৪০ পিস, ১৮ পিস শেরওয়ানির বদলে ১২০ পিস এবং ৯৪ পিস টি-শার্টের পরিবর্তে ১২৪ পিস পাওয়া যায়।

এছাড়া ঘোষণায় ১৮৭ পিস গাউন উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ১০০ পিস গাউন এবং অতিরিক্ত ৮৭ পিস সাধারণ লেহেঙ্গা, যা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে স্পষ্ট অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঘোষণাবহির্ভূত অতিরিক্ত পণ্য আমদানির মাধ্যমে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও সময়োপযোগী অভিযানের কারণে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই চালানের মাধ্যমে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৯ টাকা শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রযোজ্য জরিমানা ও অন্যান্য আর্থিক দায় যুক্ত হলে মোট আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ টাকা হতে পারে।

ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা কাস্টম হাউসে পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি, পণ্য গোপন, ভুল ঘোষণা এবং রাজস্ব জালিয়াতি রোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!