ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

মোটর পার্টসের নামে ভারতীয় প্রসাধনী! বেনাপোলে কাস্টমসের হাতে ২২ প্যাকেজ

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

মোটর পার্টসের নামে ভারতীয় প্রসাধনী! বেনাপোলে কাস্টমসের হাতে ২২ প্যাকেজ

ছবিঃ সংগৃহীত

বেনাপোল স্থলবন্দরে মোটর পার্টস আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালান থেকে ঘোষণাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী ও পোশাকজাত পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে কাস্টমসের ধারণা, ঘোষণার আড়ালে অতিরিক্ত ও ভিন্ন ধরনের পণ্য এনে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ইজমা লাইট হাউজ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ১ হাজার ৫২ প্যাকেজ মোটর পার্টস আমদানির ঘোষণা দেয়। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৫৩৫৯৪৪৩, তারিখ ২৫ জুলাই ২০২৬। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী চালানটির গ্রস ওজন ১০ হাজার ৬৫৫ কেজি এবং নিট ওজন ৮ হাজার ৯৫৪ কেজি। পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ট্রেড কমিউনিকেশন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি

কাস্টমস সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ আগস্ট বেনাপোল বন্দরের ১৭ নম্বর শেডে চালানটির তল্লাশি চালায় কাস্টমসের আইআরএম শাখা। তল্লাশির একপর্যায়ে মোটর পার্টসের ঘোষণার আড়ালে ১৯ প্যাকেজ ভারতীয় ‘পন্ডস’ ফেস ক্রিম পাওয়া যায়।

এ ছাড়া চালানটিতে ঘোষণা না থাকা আরও তিন প্যাকেজ টি-শার্ট, গেঞ্জি, টুপি ও গ্লাভস পাওয়া যায়। অর্থাৎ মোট ২২ প্যাকেজ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

১৭ নম্বর শেডের ইনচার্জ তারেক হোসেন বলেন, আমদানিকারক ঘোষণার বাইরে অতিরিক্ত তিন প্যাকেজ পণ্য এনেছেন। একই সঙ্গে মোটর পার্টসের পরিবর্তে ১৯ কার্টন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া গেছে। তবে ইনভেন্টরি রিপোর্ট চূড়ান্ত না হওয়ায় পণ্যের সঠিক পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে এখনই নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

ইনভেন্টরি রিপোর্টের অপেক্ষায় কাস্টমস

কাস্টমস আইআরএম শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সলেমান শাহেদ জানান, চালানটির ইনভেন্টরি সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে বলা হয়েছে। তবে জব্দ পণ্যের বিস্তারিত তালিকা নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে চাননি।

আইআরএমের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান বলেন, ইনভেন্টরি রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জব্দ পণ্যের প্রকৃতি, পরিমাণ, মূল্য এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে কাস্টমস আইআরএমের রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল কি?

বন্দর-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, মোটর পার্টসের পরিবর্তে তুলনামূলক উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী পণ্য আমদানি করে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ ঘোষণাপত্রে যে পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তল্লাশিতে তার বাইরে অন্য পণ্য পাওয়া গেছে।

তবে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। ইনভেন্টরি, মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পরই প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ এবং আইনগত দায় নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম বা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করাও সম্ভব হয়নি।

চালানটির ইনভেন্টরি রিপোর্ট ও পরবর্তী কাস্টমস কার্যক্রমের ওপর এখন নির্ভর করছে—এ ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কত টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!