চোরাচালান, অবৈধ আমদানি-রপ্তানি ও কাস্টমস আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক এবং বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তিতে নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ব্যবস্থায় সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে ই-নিলাম বা লাইভ ই-অকশনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিক্রি ও হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ধ্বংসযোগ্য পণ্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ধ্বংসও করা যাবে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) এনবিআরের কাস্টমস শাখা থেকে ‘অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। এতে সই করেছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২ জুলাই জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের স্থায়ী আদেশ বাতিল করা হয়েছে। কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ৯৪-এর সঙ্গে পঠিতব্য ধারা ২৩৭ ও ২৬৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আদেশটি জারি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পণ্য নিষ্পত্তিতে ই-নিলামকে অগ্রাধিকার
নতুন আদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য বিক্রিতে ই-নিলাম বা লাইভ ই-অকশনকে প্রধান পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা। এর ফলে নিলাম কার্যক্রমকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কোনো কারণে ই-নিলাম আয়োজন সম্ভব না হলে প্রকাশ্য নিলাম, তাৎক্ষণিক নিলাম কিংবা সিল্ড নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিলাম কার্যক্রমের আগে পণ্যের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ, সম্ভাব্য ক্রেতাদের পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ এবং নিলামের প্রচার-প্রচারণার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নিয়ম করা হয়েছে।
আটক পণ্য কোথায় যাবে
নতুন আদেশ অনুযায়ী কাস্টমস, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, আনসারসহ যেসব কর্তৃপক্ষ কোনো পণ্য আটক করবে, তাদের তা নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দিতে হবে।
পণ্য জমা দেওয়ার সময় আটককারী কর্তৃপক্ষকে তিন প্রস্থ আটক প্রতিবেদন দিতে হবে। গুদাম কর্মকর্তা পণ্যের মডেল, ব্র্যান্ড, পরিমাণ, মূল্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য গুদাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।
সাধারণ পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাস্টমস গুদামে গ্রহণ করা হবে। তবে পচনশীল পণ্য অফিস সময়ের পরও গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে।
স্বর্ণ-হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রায় বিশেষ ব্যবস্থা
স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রার মতো মূল্যবান পণ্যের ক্ষেত্রে স্বীকৃত যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
সনদ পাওয়া না গেলে এসব মূল্যবান পণ্য সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখার সুযোগ রয়েছে। গুদামে গ্রহণের পর জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ প্রহরায় নিকটস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বা ট্রেজারি ব্যাংকে এসব পণ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শেষ না হলে মূল্যবান পণ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
দাবিদারকে সাত কর্মদিবস সময়
আটক পণ্য নিষ্পত্তির আগে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, এজেন্ট বা প্রকৃত দাবিদারকে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে হবে। এজন্য সাত কর্মদিবসের নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
ডাক, কুরিয়ার, ই-মেইল, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, ডিজিটাল যোগাযোগ অথবা নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে এ নোটিশ দেওয়া যাবে। কুরিয়ার পণ্যের মালিকের ঠিকানা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস, এলসি স্টেশন বা বিভাগীয় দপ্তরের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিদার তার দাবি প্রমাণ করতে পারলে এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করলে পণ্য খালাসের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে দাবিদার পাওয়া না গেলে বা দাবি প্রমাণিত না হলে আইন অনুযায়ী পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে পরবর্তী নিষ্পত্তি করা হবে।
৫৩ ধরনের পণ্য বিএমটিএফে বিক্রির সুযোগ
নতুন আদেশের পরিশিষ্ট-৪-এ বিশেষভাবে ৫৩ ধরনের পণ্যের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) কাছে নিলাম ছাড়াই বিক্রির আওতায় আসতে পারে।
তালিকায় খাদ্যপণ্য, মসলা, ভোজ্যতেল, রাসায়নিক, কসমেটিকস, প্লাস্টিক, চামড়া, কাঠ, কাগজ, পোশাক, জুতা, টাইলস, ধাতু, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, মোবাইল ফোন, যানবাহন, মেডিকেল সরঞ্জাম ও ফার্নিচারসহ বিভিন্ন শ্রেণির পণ্য রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত মূল্যের ন্যূনতম ৬০ শতাংশ দামে এসব পণ্য বিএমটিএফের কাছে বিক্রি করা যাবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিসিবি, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জন্য আলাদা ব্যবস্থা
কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ নিলাম পদ্ধতির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
চিনি, লবণ, ডাল, সয়াবিন তেলসহ নির্দিষ্ট পচনশীল খাদ্যপণ্য টিসিবি কিনতে আগ্রহী হলে বোর্ড নির্ধারিত মূল্যে তাদের কাছে বিক্রি করা যাবে।
স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যাবে।
মদ ও মদ্যজাতীয় পানীয় এবং বিদেশি সিগারেট বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কাছে বিক্রির বিধান রাখা হয়েছে। প্রত্নসম্পদ জাতীয় বা আঞ্চলিক জাদুঘর কিংবা সরকারি দপ্তরে হস্তান্তর করা যাবে।
প্রাণী বা প্রাণীর দেহাবশেষ বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কাছে বিনামূল্যে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ওষুধের কাঁচামাল যাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে
ওষুধের কাঁচামালের ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে এসব কাঁচামাল এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড অথবা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যাবে।
অন্যদিকে নিলামে বিক্রি করা সম্ভব নয় এমন নিয়ন্ত্রিত, নিষিদ্ধ, গুণগতমান নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ধ্বংসযোগ্য পণ্য বিশেষায়িত সংস্থার কাছে বিনামূল্যে হস্তান্তর করে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিলামে বিক্রি না হলে বিকল্প ব্যবস্থা
নিলামের পরও কোনো পণ্য বিক্রি না হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের প্রস্তাবিত মূল্যে পণ্য বিক্রি বা হস্তান্তর করা যেতে পারে।
অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় কোনো পণ্য একবার নিলামে উঠেই নিষ্পত্তি হবে—এমন নয়। নিলামে বিক্রি না হওয়া পণ্যের জন্যও পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিলাম কমিটিতে কারা থাকবেন
নিলাম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনার এক বা একাধিক নিলাম কমিটি গঠন করবেন। অতিরিক্ত কমিশনার বা যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা যাবে।
নিলাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গুদাম কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাস্টমস কর্মকর্তা কমিটির সদস্য থাকবেন। প্রয়োজনে অন্যান্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও কো-অপ্ট করা যাবে।
দরদাতার যোগ্যতাও নির্ধারণ
নিলামে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, মূসক নিবন্ধন, টিআইএন সনদ এবং সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে।
ব্যক্তিশ্রেণির দরদাতার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সনদ এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।
প্রতিটি লটের সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ হারে ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হবে। ই-নিলামের ক্ষেত্রে ই-পেমেন্ট এবং অন্য নিলাম পদ্ধতিতে পে-অর্ডার, ই-পেমেন্ট অথবা যাচাইযোগ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে জামানত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিলামের আগে প্রচার বাধ্যতামূলক
নিলাম অনুষ্ঠানের কমপক্ষে সাত কর্মদিবস আগে একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটেও নিলামের তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
আগ্রহী ক্রেতাদের নিলামের আগে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে। নিলামের দুই দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের বিধানও রাখা হয়েছে।
প্রচলিত নিলামে ৬০ শতাংশ দর
প্রচলিত পদ্ধতিতে নিলামের ক্ষেত্রে প্রথম নিলামে সংরক্ষিত মূল্যের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ দর পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে পণ্য বিক্রির সুপারিশ করা হবে।
এ দরে বিক্রি না হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিলামের ব্যবস্থা করা হবে। তিন দফা নিলামেও পণ্য বিক্রি না হলে মেগালট তৈরির মাধ্যমে পরবর্তী নিলামে তোলার সুপারিশ করা যাবে।
ই-নিলামে তিন দিনের মধ্যে অনুমোদন
ই-নিলামের ক্ষেত্রে প্রথম নিলামকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দরদাতাদের তুলনামূলক তালিকা তৈরি করবে।
নিলাম কমিটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দরদাতা নির্ধারণ করে কমিশনারের কাছে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনারকে তা অনুমোদন অথবা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে আইনানুগ সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
অনুমোদনের তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিজয়ী দরদাতার অনুকূলে বিক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থ পরিশোধ ও পণ্য খালাসের সময়সীমা
বিক্রয়াদেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরমূল্য, প্রযোজ্য উৎসে আয়কর ও মূসক পরিশোধ করতে হবে।
অর্থ পরিশোধের পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে ডেলিভারি অর্ডার দেওয়ার বিধান রয়েছে। ডেলিভারি অর্ডার পাওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে।
নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়েও পণ্য গ্রহণ না করলে বিক্রয় অনুমোদন বাতিল হবে। একই সঙ্গে বিজয়ী দরদাতার জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে পণ্য পুনরায় নিলামে তোলা হবে।
নিলামের অর্থ বণ্টনেও নির্দিষ্ট ক্রম
নিলামে পাওয়া অর্থও নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে বণ্টন করা হবে। প্রথমে নিলামকারী কমিশনসহ বিক্রয়-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা হবে।
এরপর পণ্যের ফ্রেইট ও অন্যান্য চার্জ, সরকারের প্রাপ্য কাস্টমস শুল্ক, কর ও অন্যান্য পাওনা এবং সবশেষে হেফাজতকারী বা জিম্মাদারের পাওনা চার্জ পরিশোধ করা হবে।
সব পাওনা পরিশোধের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে পণ্যের মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কারসাজি করলে কালো তালিকাভুক্ত
নিলাম কার্যক্রমে প্রকাশ্য বাধা সৃষ্টি, মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল দলিল দাখিল, নির্ধারিত সময়ে জামানত না দেওয়া কিংবা অন্য অংশগ্রহণকারীকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে।
একই সঙ্গে প্রযোজ্য আইনে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস
নতুন আদেশে ধ্বংসযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
মদ ও মদ্যজাতীয় পানীয় এবং বিদেশি সিগারেট নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা সম্ভব না হলে ধ্বংস করা যাবে। আমদানি-রপ্তানি নীতি বা অন্যান্য আইনে নিষিদ্ধ পণ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ ও গুণগতমান নষ্ট পণ্যও ধ্বংসের আওতায় থাকবে।
পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমস, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন, বাংলাদেশ বিমান, বিজিবি বা কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
ধ্বংসের আগে ইনভেন্টরি বাধ্যতামূলক
পণ্য ধ্বংসের আগে বিস্তারিত ইনভেন্টরি প্রস্তুত করতে হবে। এতে পণ্যের বিবরণ, পরিমাণ, ব্র্যান্ড, মডেল, আর্ট নম্বর, পার্ট নম্বর, তৈরির সাল, তৈরির দেশ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূল্য উল্লেখ করতে হবে।
ধ্বংসের স্থান ও সময় নির্ধারণের পর কমিটির সদস্যদের কমপক্ষে পাঁচ কর্মদিবস আগে জানাতে হবে। ধ্বংস কার্যক্রম শেষে উপস্থিত সদস্যরা তালিকায় প্রতিস্বাক্ষর করবেন এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
প্রতি মাসে এনবিআরে প্রতিবেদন
নিলাম ও ধ্বংস কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এসব প্রতিবেদন এনবিআরের নিলাম শাখায় পাঠাতে হবে।
আদেশের কোনো বিধানের সঙ্গে বিদ্যমান আইন বা বিধির অসামঞ্জস্য দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আইন বা বিধির বিধানই প্রাধান্য পাবে।
নতুন স্থায়ী আদেশের মাধ্যমে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য ব্যবস্থাপনায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে এনবিআর। বিশেষ করে ই-নিলাম, দরদাতার পরিচয় যাচাই, নিলামের প্রচার, পণ্য পরিদর্শন, জামানত, অর্থ বণ্টন এবং ধ্বংস প্রক্রিয়াকে লিখিত নিয়মের আওতায় আনার ফলে নিষ্পত্তি কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে বাস্তবে এই বিধান কতটা স্বচ্ছভাবে প্রয়োগ হয়, নিলামযোগ্য পণ্যের সংরক্ষিত মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হয়, ই-নিলামে প্রতিযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা যায় এবং নিলাম ছাড়া সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর বা বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ ও নজরদারি কতটা কার্যকর থাকে—সেটিই হবে নতুন ব্যবস্থার বড় পরীক্ষা।

