উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাত ধরেই দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন যুগের সূচনা হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সাক্ষী। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ ও সঠিক পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর। তাই দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদও দ্রুত পূরণ করা হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সারা দেশে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদের ৮০ শতাংশ নারী হবেন এবং তারা পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের পর এবার স্বাস্থ্য খাতেই সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ভ, পেসমেকার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া শহরমুখী রোগীর চাপ কমাতে দেশের ৩১ থেকে ৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি বরিশাল ও রাজশাহীসহ পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

