ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ঢাকা সিটি ভোটে নতুন সমীকরণ, উত্তরে আসিফ মাহমুদ দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

ঢাকা সিটি ভোটে নতুন সমীকরণ, উত্তরে আসিফ মাহমুদ দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন দলটির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির দুই শীর্ষ নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা থেকেই তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি জানান এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ভোটার এলাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করেন আসিফ মাহমুদ। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা করে। প্রক্রিয়া শেষে তার আবেদন অনুমোদন করা হয়।

এর ফলে আসিফ মাহমুদের ভোটার নিবন্ধন এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে।

উত্তরা থেকে দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অন্যদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নতুন ভোটার এলাকা ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের আওতাধীন। তিনিও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ ব্যবহার করে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করেন।

প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষার পর নির্বাচন কমিশন তার আবেদন অনুমোদন করে। এর মাধ্যমে উত্তরা এলাকার ভোটার থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হয়েছেন তিনি।

মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি?

এনসিপির দুই শীর্ষ নেতার একই সময়ে দুই সিটি করপোরেশনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এনসিপির অভ্যন্তরে নতুন করে হিসাব-নিকাশ চলছে। এরই অংশ হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করলেই কোনো প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে যায় না। দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী আইন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ হবে।

আগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনসিপির

এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট না করে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নিয়েও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা ছিল।

সে সময় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী করার আলোচনা ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

তবে প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আর সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দুজনের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

ঢাকার দুই সিটিতে নজর এনসিপির

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনসংখ্যা, রাজনৈতিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব—সব মিলিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির জন্যও ঢাকার দুই সিটিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি দলটির জন্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ—দুজনই এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের একজনকে দক্ষিণ এবং অন্যজনকে উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—এমন খবরের মধ্যেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এলো।

কী বলছে দল

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সোমবার রাতে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চূড়ান্তভাবে কারা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সে বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে দুই নেতার ভোটার স্থানান্তরকে আপাতত তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে দলগুলোর প্রার্থী বাছাই ও রাজনৈতিক সমীকরণ যখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, তখন এনসিপির এই দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তন রাজধানীর নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!