ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

‘বাধা এলেও লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই’: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

‘বাধা এলেও লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই’: নাহিদ ইসলাম

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি এলেও ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবেই। তিনি বলেন, নতুন করে কেউ যেন স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ না পায়, সেই পথ বন্ধ করতেই এই কর্মসূচি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাধা-বিপত্তি এলেও লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবে’

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে।”

তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ওই সময় সারা দেশের মানুষ ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকায় একত্রিত হয়েছিল এবং এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।”

‘চাঁদাবাজ-সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ’

লং মার্চের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়; বরং জনগণের বিভিন্ন দাবি ও অসন্তোষকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই লং মার্চ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ।”

এ সময় তিনি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন। তাঁর ভাষ্য, যারা তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও এই লং মার্চ।

গণরায় বাস্তবায়নের দাবি

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের বিরুদ্ধেও এই কর্মসূচি।

তিনি বলেন, “এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।”

তিনি জনগণকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন।”

‘এটি ১১ দলের লং মার্চ নয়’

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, লং মার্চকে শুধু ১১টি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি ও অধিকারকে সামনে রেখেই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‘শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব’

লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার চেষ্টা করা হবে।

তবে সরকার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনের দাবির ধরন আরও কঠোর হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।”

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে কর্মসূচি

১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে শনিবার সকালে ঢাকার মতিঝিল থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে উদ্বোধনী সমাবেশে জোটভুক্ত দলগুলোর নেতারা বক্তব্য দেন।

কর্মসূচিতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লং মার্চের মাধ্যমে জনগণের দাবিগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হবে।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিটির অন্যতম বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে—নতুন করে কোনো কর্তৃত্ববাদী বা স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ না দেওয়া এবং জনগণের দাবি ও গণরায়ের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা।

লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় নাকি পথে কোনো বাধা বা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!