ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবিঃ সংগৃহীত

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ নয়—সবার সবচেয়ে গর্বিত পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান।” নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী জীবনযাপন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার হলেও রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিভাজন না করে জাতীয় পরিচয়কে সামনে রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হবেন না। প্রত্যেক নাগরিকের পরিচয় হবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন সবাই নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

‘কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসকের’ অবসান হয়েছে

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণ সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখন দেশের অর্থনীতি, সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

গুজব ও উসকানি ঠেকাতে ঐক্যের আহ্বান

দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি মহল নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ধর্মীয় ও সামাজিক বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি দেশের অন্যতম শক্তি। কোনো অপশক্তিকে সেই ঐতিহ্য নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা রয়েছে। পূজা, উৎসব, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিরাপদে পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের চোখে সবাই সমান। কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হলে কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পুরোহিত-সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে তিনি পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাজধানীর ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের মধ্যে সম্মানী তুলে দেওয়া হয়। একই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তি, পুরোহিত ও সেবায়েতরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিভাজন নয়, ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তার আহ্বান—ধর্মীয় পরিচয়কে সম্মান করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়কে সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। গুজব, উসকানি ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!