ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই নবম পে স্কেলের গেজেট, অক্টোবর থেকে নতুন বেতনের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই নবম পে স্কেলের গেজেট, অক্টোবর থেকে নতুন বেতনের সম্ভাবনা

ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব ধরনের জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট জারি করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করার প্রস্তুতি রয়েছে।

অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে আগামী অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর ধরা হতে পারে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।

এ ক্ষেত্রে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এসব মাসের বকেয়া অর্থ বা বেতন সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সূত্রের দাবি, আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত খসড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতা ঠিক কত শতাংশ বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির একটি বড় প্রস্তাব উঠে এসেছে।

জানা গেছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটি। তবে এটি কমিটির সুপারিশ; চূড়ান্তভাবে কত শতাংশ বেতন বাড়বে, তা মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন কার্যকর এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকরের প্রস্তাব রয়েছে।

পে স্কেল নিয়ে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়।

জুলাই থেকে কার্যকরের পরিকল্পনা

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হওয়ার পর তা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন এবং অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

পে স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লাখো সরকারি চাকরিজীবী

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কতটা বাড়বে—এ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

তবে এখন পর্যন্ত বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে সচিব কমিটির সুপারিশের সঙ্গে চূড়ান্ত গেজেটে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ এবং অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে কার্যকারিতা ধরা হলে আগের তিন মাসের বেতন সমন্বয় কীভাবে করা হবে, সেটিও গেজেট প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!