ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

একসঙ্গে চার শীর্ষ কর্মকর্তা প্রত্যাহার: নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের ডিসি, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

একসঙ্গে চার শীর্ষ কর্মকর্তা প্রত্যাহার: নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের ডিসি, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার

ছবিঃ সংগৃহীত

মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রশাসন ক্যাডারের এই চার কর্মকর্তাকে তাদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাহারের আদেশ জারি করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চার কর্মকর্তাকেই পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

একই রাতে চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদ থেকে একই সময়ে চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘটনা প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জেলা প্রশাসক হিসেবে তারা জেলার সার্বিক প্রশাসন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সমন্বয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং মাঠ প্রশাসনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ তদারকি ভূমিকা রাখেন।

ফলে একসঙ্গে তিন জেলার ডিসি এবং একটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে কারণ উল্লেখ নেই

তবে চার কর্মকর্তাকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে কেবল তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এ কারণে প্রত্যাহারের পেছনে প্রশাসনিক কারণ, পদায়ন পুনর্বিন্যাস, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন নাকি অন্য কোনো বিষয় কাজ করেছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নতুন ডিসি ও কমিশনার নিয়োগ হয়নি

চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও মঙ্গলবার রাতে তাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কোনো জেলা প্রশাসক বা বিভাগীয় কমিশনারকে পদায়ন করা হয়নি।

ফলে নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরে জেলা প্রশাসকের পদ এবং রাজশাহী বিভাগে বিভাগীয় কমিশনারের পদে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাধারণত মাঠ প্রশাসনে কোনো পদ শূন্য হলে দ্রুত নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এবার প্রত্যাহারের আদেশের সঙ্গে নতুন কর্মকর্তার পদায়ন না হওয়ায় পরবর্তী আদেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠ প্রশাসনে রদবদলের তাৎপর্য

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় এসব পদে থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

বিশেষ করে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় মাঠ প্রশাসনে রদবদল নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। কারণ জেলা পর্যায়ে সরকারের কার্যক্রমের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন অনেকাংশেই জেলা প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল।

তবে কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করলেই তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রজ্ঞাপনে যেহেতু প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তাই এ বিষয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্যের সুযোগও সীমিত।

পরবর্তী পদায়নের অপেক্ষায় চার কর্মকর্তা

প্রত্যাহারের পর চার কর্মকর্তাকেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা আপাতত তাদের আগের মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকছেন না এবং পরবর্তী পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে তাদের নতুন কোনো দায়িত্বে পদায়ন করতে পারে অথবা প্রশাসনের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনো স্থানে দায়িত্ব দিতে পারে।

চার কর্মকর্তার নতুন পদায়ন কখন এবং কোথায় হবে, সে বিষয়ে মঙ্গলবার রাতের প্রজ্ঞাপনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

প্রশাসনে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত?

একসঙ্গে চার শীর্ষ মাঠ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও রদবদল হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি ও পদায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে।

তাই বর্তমান চার কর্মকর্তার প্রত্যাহারের পর তাদের জায়গায় কাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

এখন নজর নতুন পদায়নে

নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে মাঠ প্রশাসনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। তবে এই পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং তাদের দায়িত্ব পালনের ধরন স্পষ্ট হওয়ার পর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকায় এ সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক ভিত্তি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার নয়।

এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজর নতুন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগের দিকে। একই সঙ্গে প্রশ্ন থাকছে—এই প্রত্যাহার কি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নাকি মাঠ প্রশাসনে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা?

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!