ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

উগ্রবাদ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

উগ্রবাদ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই চরমপন্থা, উগ্রবাদ কিংবা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেবে না। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তা কখনো শত্রুতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা পাব বলে আমি বিশ্বাস করি।"

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

সরকারপ্রধান বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় এবং যেকোনো মূল্যে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর।

তার ভাষায়, "হাত বেঁধেই হোক কিংবা টুঁটি চেপেই হোক—দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।"

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবে। এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব

তিনি বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে ভবিষ্যতে একটি ইউনিভার্সেল কার্ড ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জনগণের দেওয়া নির্বাচনী ম্যান্ডেট অনুযায়ী ৩১ দফা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।

ঐতিহাসিক বাজেট অধিবেশন

তিনি বলেন, বহু বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্নীতি দমন, উগ্রবাদ প্রতিরোধ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অঙ্গীকারের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের সমান প্রয়োগের ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই এসব প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!