পাবনা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আবু তালেব মন্ডলের নাম জড়িয়ে আলহাজ্ব মাঠের সামনে সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ।
গতকাল এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অনেকে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তবে সরেজমিনে আলহাজ্ব মাঠের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ৮টি দোকান নির্মাণের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় নির্মাণাধীন দোকানগুলোর জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মূল প্রশ্ন—নির্মাণাধীন দোকানগুলো কি তালেব মন্ডল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধভাবে ক্রয় করা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে, নাকি সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে?
অভিযোগকারীদের দাবি, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলে সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ দলিল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর প্রকাশ করা প্রয়োজন। আর জমিটি সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হলে সেখানে দোকান নির্মাণের অনুমতি কে দিয়েছে—সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ না করে সরকারি রেকর্ড, ভূমি অফিসের নথি, দলিলপত্র এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা উচিত। সরকারি জমি দখলের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির মালিকানা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা স্থানীয়ভাবে রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু বক্তব্য বা ব্যাখ্যা নয়; জমির বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি রেকর্ড জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে বিষয়টির প্রকৃত সত্য আরও স্পষ্ট হবে।
একজন সংসদ সদস্যের নাম জড়িয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দোকান নির্মাণের বৈধতা নিশ্চিত করবে।

