গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতাবানদের কর্মকাণ্ডের প্রশ্ন তোলা, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং মানুষের কথা সামনে আনার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। এ কারণেই গণমাধ্যমকে প্রায়ই রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিস্তার এবং মোবাইল সাংবাদিকতার উত্থানে সাংবাদিকতার পরিসর বাড়লেও এই পেশায় কর্মরত তরুণদের বাস্তবতা কতটা বদলেছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কাজের সুযোগ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা।
বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সংকটটি আরও প্রকট। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য তরুণ সংবাদ সংগ্রহ, ছবি, ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচারের কাজ করলেও তাদের বড় একটি অংশ নিয়মিত বেতন বা সম্মানী থেকে বঞ্চিত। ফলে সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ নিয়ে পেশায় প্রবেশ করলেও কয়েক বছর না যেতেই অনেকে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
স্মার্টফোনেই সাংবাদিকতা, কিন্তু পেশাদারিত্ব কোথায়?
ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগে একটি সংবাদ তৈরি করতে প্রতিবেদক, ফটোগ্রাফার, ক্যামেরাপারসন ও নিউজ ডেস্কের সমন্বয় প্রয়োজন হতো। এখন একটি স্মার্টফোন দিয়েই ভিডিও ধারণ, সাক্ষাৎকার, লাইভ সম্প্রচার, সম্পাদনা এবং সংবাদ প্রকাশ—সবই সম্ভব।
এতে সাংবাদিকতায় নতুন প্রজন্মের প্রবেশের পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল জার্নালিজম বা ‘মোজো’ এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা তরুণদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছে।
তবে প্রযুক্তি সহজলভ্য হলেও সাংবাদিকতা সহজ হয়ে যায়নি। বরং দ্রুত সংবাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় তথ্য যাচাই, সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা অনুসরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বা পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে। একই সময়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোও দ্রুততম সময়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় নামছে। এই প্রতিযোগিতায় অনেক সময় ‘আগে প্রকাশ’ হয়ে উঠছে ‘সঠিকভাবে প্রকাশ’-এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এর ফলে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর সাংবাদিক—পার্থক্য কোথায়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের অনেকে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিডিও, লাইভ কিংবা সংবাদধর্মী কনটেন্ট তৈরি করছেন। এটি তথ্যপ্রবাহকে গতিশীল করলেও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কারণ সাংবাদিকতা শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তথ্য বলার নাম নয়। একটি তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, প্রেক্ষাপট বোঝা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জামিল খান, যিনি দেশ ও দেশের বাইরে মোবাইল সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন, মনে করেন—সাংবাদিকতায় এখন শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিডিয়া হাউসগুলো মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সংবাদকর্মীদের মাঠে পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। অনেক সময় ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ না করেই লাইভে চলে যাওয়ায় ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি যথাযথভাবে ফ্যাক্ট-চেকও করা হয় না। ফলে লাইভ দেখা বিপুলসংখ্যক মানুষ ভুল তথ্য জেনে যেতে পারেন।
তিনি আরও মনে করেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একটি অংশ সাংবাদিকতায় এলেও অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকে না। একই সঙ্গে ঢাকার সাংবাদিকরা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও মফস্বলের সাংবাদিকরা সেই সুযোগ থেকে পিছিয়ে রয়েছেন।
মফস্বলে সাংবাদিক বেশি, বেতন পান কতজন?
সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যগুলোর একটি দেখা যায় মফস্বল পর্যায়ে। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মী মাঠে কাজ করলেও তাদের বড় একটি অংশের নিয়মিত আয় নেই।
একাধিক জেলা ও বিভাগীয় শহরের সাংবাদিক এবং সংবাদ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো জেলায় প্রায় ২০০ থেকে ৮০০ বা তারও বেশি ব্যক্তি সাংবাদিকতা বা সংবাদ-সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু তাদের তুলনায় নিয়মিত বেতন কিংবা সম্মানী পাওয়া সাংবাদিকের সংখ্যা অত্যন্ত কম।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো জেলায় নিয়মিত বেতন পান সর্বোচ্চ প্রায় ২০ জন এবং সম্মানী পান আরও প্রায় ৩০ জন। অর্থাৎ কয়েকশ সাংবাদিকের বিপরীতে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পান এমন সংবাদকর্মীর সংখ্যা হাতেগোনা।
আর যারা সম্মানী পান, তাদের অনেকের প্রাপ্ত অর্থ এতটাই সীমিত যে তা দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—একজন সাংবাদিক যদি নিজের ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে তিনি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করবেন?
ঢাকায় সুযোগ বেশি, মফস্বল পড়ে পিছিয়ে
রাজধানী ঢাকা দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও করপোরেট কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার সাংবাদিকদের পেশাগত সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি।
প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকায় হওয়ায় সাংবাদিকরা নিয়মিত নিউজরুম, সম্পাদকীয় টিম, প্রশিক্ষণ, সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছ থেকে শেখা, প্রেস ব্রিফিং, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সোর্স নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন পেশাগত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
অন্যদিকে মফস্বলের সাংবাদিকদের অনেক সময় একাই একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ, লাইভ, সম্পাদনা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপলোড—সব কাজই করতে হয় একজনকে।
তারপরও অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত বেতন, যাতায়াত ভাতা, মোবাইল বিল, চিকিৎসা সুবিধা কিংবা পেশাগত প্রশিক্ষণ পান না।
এই বৈষম্য শুধু সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত সমস্যাই নয়; এর প্রভাব পড়ে দেশের সংবাদ কাভারেজের মান ও বৈচিত্র্যের ওপরও।
বাড়ছে মিডিয়া, বাড়ছে না পেশাগত নিরাপত্তা
তথ্য অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে ডিএফপি নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ২২৭টি। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৩১১টি। নিবন্ধিত অনলাইন নিউজপোর্টাল রয়েছে ৪৭৪টি এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৫৯টি। তবে অনুমোদন পাওয়া সব টেলিভিশন এখনো সম্প্রচারে আসেনি।
সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার কর্মক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের কতজনের চাকরির লিখিত নিশ্চয়তা আছে? কতজন নিয়মিত বেতন পান? কতজন ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি কিংবা চিকিৎসা সুবিধা পান?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই মূলত সাংবাদিকতা পেশার বর্তমান বাস্তবতার একটি বড় চিত্র তুলে ধরতে পারে।
তরুণদের আগ্রহ আছে, কিন্তু টিকে থাকার নিশ্চয়তা নেই
বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের দক্ষতা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি। ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিকস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা, মোবাইল ফটোগ্রাফি এবং অনলাইন কনটেন্ট তৈরিতে অনেক তরুণ দক্ষ।
কিন্তু আগ্রহ থাকা আর পেশায় টিকে থাকা এক বিষয় নয়।
যদি একজন তরুণ সাংবাদিক দিনের পর দিন মাঠে কাজ করেও পর্যাপ্ত সম্মানী না পান, চাকরির নিশ্চয়তা না থাকে এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ না পান, তাহলে একসময় তার সামনে পেশা পরিবর্তনের প্রশ্নই বড় হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাংবাদিকতায় দক্ষ ও মেধাবী তরুণদের ধরে রাখা কঠিন হবে।
‘দ্রুত সংবাদ’ নয়, দরকার ‘নির্ভুল সংবাদ’
ডিজিটাল যুগে সংবাদ প্রকাশের গতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দ্রুততার প্রতিযোগিতায় সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিগুলো যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
একটি ভুল তথ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সেটি সংশোধন করলেও প্রথমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের প্রভাব অনেক সময় থেকে যায়।
তাই প্রতিটি সংবাদকর্মীর জন্য ফ্যাক্ট-চেকিং, সোর্স ভেরিফিকেশন, ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন এবং সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
সমাধান কোথায়?
সাংবাদিকতা পেশার বর্তমান সংকট মোকাবিলায় শুধু সংবাদমাধ্যমের মালিক বা সম্পাদকদের নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে।
মিডিয়া হাউসগুলোকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বচ্ছ বেতন কাঠামো, নিয়মিত বেতন, ইনক্রিমেন্ট, চাকরির শর্ত, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে।
সরকারেরও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশাকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও দক্ষতাভিত্তিক করার বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগগুলোকে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া, মোবাইল জার্নালিজম, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, ডেটা জার্নালিজম ও ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের বাস্তব প্রশিক্ষণ আরও বাড়াতে হবে।
জেলা-উপজেলা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোরও শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। একইভাবে উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর
আগামী দিনের সাংবাদিকতা যে আরও বেশি মাল্টিমিডিয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ, মোবাইল সাংবাদিকতা, ড্রোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দ্রুত তথ্য যাচাই—সবকিছুই সাংবাদিকতার অংশ হয়ে উঠছে।
তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সাংবাদিকতার মূল শক্তি থেকে যাবে সত্য, নিরপেক্ষতা, যাচাই, জনস্বার্থ এবং জবাবদিহিতা।
তরুণদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিলেই দক্ষ সাংবাদিক তৈরি হবে না। তাদের প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা, অভিজ্ঞতার সুযোগ এবং সর্বোপরি একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ।
অন্যথায় সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বাড়লেও মানসম্মত সাংবাদিকতার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
শেষ কথা
সাংবাদিকতার সামনে এখন একই সঙ্গে রয়েছে সম্ভাবনা ও সংকট। একদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তরুণদের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে অনিয়মিত বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চাপ এই পেশাকে কঠিন করে তুলছে।
বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকতার বাস্তবতা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ রাজধানীকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা দিয়ে পুরো দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়। গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, প্রান্তিক মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেন মূলত মফস্বলের সাংবাদিকরাই।
তাদের যদি ন্যায্য সম্মানী, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে গণমাধ্যমের বিস্তার ঘটলেও শক্তিশালী সাংবাদিকতা গড়ে উঠবে না।
তাই তরুণদের সাংবাদিকতায় আনাই শেষ কথা নয়—তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং মর্যাদার সঙ্গে এই পেশায় টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

