ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটকের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (৯ আগস্ট) তাকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কিছুক্ষণের মধ্যে ডন হককে আদালতে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দর থেকে আটক, পরে সিআইডির হেফাজতে
বিমানবন্দর থানার পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডন হককে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে সিআইডির একটি দল সেখানে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তবে আদালতে হাজির করার পর তার বিরুদ্ধে কী ধরনের রিমান্ড আবেদন করা হবে কিংবা আদালত কী আদেশ দেন—তা শুনানি শেষে জানা যাবে।
প্রায় তিন দশক পর মামলায় নতুন গতি
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় নিজ কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও নানা প্রশ্ন চলে আসছে।
সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয়েছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে প্রায় তিন দশক ধরে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য ও বিতর্ক পুরোপুরি কাটেনি।
নতুন মামলায় ১১ আসামি
দীর্ঘদিন পর সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় নতুন করে মামলা করেন। ওই মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নতুন মামলার পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও আইনি তদন্তের আওতায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি ছিল, তারা হত্যার অভিযোগে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ প্রথমে ঘটনাটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, অপমৃত্যুর মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগতভাবেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নিতে পারে।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত ও অনুসন্ধান হয়েছে। কিন্তু তার পরিবার ও ভক্তদের বড় একটি অংশ এখনো মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
মরদেহ উত্তোলন নিয়েও বিতর্ক
সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সাম্প্রতিক সময়ে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে তার মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের খবর প্রকাশিত হয়।
এদিকে নতুন করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে।
মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ। অল্প সময়েই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
তার অভিনয়, পোশাক, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি করে। অকালমৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকের কাছে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক অমর নায়ক হয়ে আছেন।
এখন ডন হককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করার ঘটনায় দীর্ঘদিনের আলোচিত এই মামলায় নতুন কোনো তথ্য বা অগ্রগতি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

