ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

বেনাপোলে একদিনে আমদানি-রফতানিতে প্রায় ৭ কোটি ও ভ্রমণ খাতে ১০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়

বেনাপোল প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

বেনাপোলে একদিনে আমদানি-রফতানিতে প্রায় ৭ কোটি ও ভ্রমণ খাতে ১০ লাখ টাকার রাজস্ব  আদায়

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ও ভিসা জটিলতার প্রভাবে আগের তুলনায় কার্যক্রম অনেকটাই কমেছে। বুধবার একদিনে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে ৩৫৪ ট্রাকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এ থেকে ভ্রমণ খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং পণ্য বাণিজ্য থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

আমদানিতে ৩০১, রফতানিতে ৫৩ ট্রাক

বন্দর সূত্র জানায়, বুধবার ভারত থেকে বেনাপোলে ৩০১ ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশুখাদ্য, মেশিনারিজ, ট্রাক চ্যাসিস, কমলা, আঙুর, আনার ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য।

অন্যদিকে একই দিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৫৩ ট্রাকে পণ্য রফতানি হয়েছে। রফতানি পণ্যের তালিকায় ছিল বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, কাঁচা লোহা, মাছ ও ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী।

তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিষেধাজ্ঞায় সুতা-সহ কয়েকটি পণ্যের আমদানিও বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রফতানি হতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে আমদানি-রফতানি এবং পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য বৈঠকও হচ্ছে না। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, “দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন দুই দেশের মধ্যে যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করে বাণিজ্য সহজ করা হলে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানিতে আবারও গতি ফিরবে।”

বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলপথ দিয়ে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন।

এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ১ হাজার ১১১ জন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি ৮৭৩, ভারতীয় ২৩৫ এবং অন্যান্য দেশের ৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন ৮১১ জন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি ৬৫০, ভারতীয় ১৫৫ এবং অন্যান্য দেশের ৬ জন নাগরিক রয়েছেন।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিসা জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গত বছরও আগের বছরের তুলনায় ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যাত্রীর যাতায়াত কমেছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা সংক্রান্ত কিছু শর্ত শিথিল হওয়ায় যাত্রী চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে। চলতি বছরের ২৮ জুলাই থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে যাত্রীকে ১ হাজার টাকা ভ্রমণ কর ও ৬১ টাকা বন্দর কর দিতে হয়। ৫ থেকে ১২ বছরের কম বয়সী যাত্রীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ কর ৫০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের শুধু ৬১ টাকা বন্দর কর দিতে হয়।

ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভ্রমণ কর মাত্র ৬১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে চলতি মাস থেকে ভারতীয় অংশের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনেও বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে ৪০০ রুপি এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ৮০০ রুপি ভ্রমণ কর নেওয়া হচ্ছে।

পণ্য পরিবহনে বেড়েছে খরচ

বেনাপোল থেকে ঢাকায় আমদানি পণ্য পরিবহনে বৃহস্পতিবার সাধারণ পণ্যের ট্রাকপ্রতি ভাড়া ছিল প্রায় ২১ থেকে ২২ হাজার টাকা। পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে এ ভাড়া ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামে সাধারণ পণ্য পরিবহনে ট্রাকপ্রতি ভাড়া ২৯ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি, পরিবহন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমদানি পণ্যের বাজারমূল্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রেলপথেও স্থবিরতা

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, বর্তমানে রেলপথে শুধু এসিআই মোটরস নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি করছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রেলপথে অন্যান্য পণ্যের আমদানি বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী রেল চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত রেল চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক ও রেল—দুই পথে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক করা গেলে শুধু বেনাপোল নয়, দুই দেশের সীমান্তবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, পর্যটন ও সেবা খাতেও নতুন করে গতি ফিরতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে সরকারের রাজস্ব আহরণ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!