ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

লক্ষ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন গতি আনতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন গতি আনতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেন।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ও সরকারের অগ্রাধিকার

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাত সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহজ শর্তে ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, কর কাঠামো সহজীকরণ, দ্রুত সেবা প্রদান এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

উদ্যোক্তারা সরকারের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।

তাদের মতে, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করছে

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও সেগুলো সম্পর্কে সচেতন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

আগের বৈঠকের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছিলেন।

তিনি জানান, ওই বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে, আর বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যা ও প্রস্তাব এসেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সেগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

নিয়মিত সংলাপের ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তার মতে, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ধরনের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও রপ্তানি খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!