ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

দৈনিক ইত্তেফাকের পাঁচবিবি প্রতিনিধি দিলদার হোসেনের ইন্তেকাল : দৈনিক আজ ও আগামীকাল পরিবারের পক্ষ হতে শোক প্রকাশ

মোঃ বাবুল হোসেন, জয়পুরহাট জেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

দৈনিক ইত্তেফাকের পাঁচবিবি প্রতিনিধি দিলদার হোসেনের ইন্তেকাল : দৈনিক আজ ও আগামীকাল পরিবারের পক্ষ হতে শোক প্রকাশ

ছবিঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের পাঁচবিবি উপজেলা সংবাদদাতা সিনিয়র সাংবাদিক দিলদার হোসেন আর নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ইশ্বরপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পাঁচবিবির সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দিলদার হোসেন পাঁচবিবি পৌরসভার টিএন্ডটি পাড়া মহল্লার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার রাতে জানাজা শেষে নবাবগঞ্জের ইশ্বরপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতায় পরিচিত মুখ ছিলেন দিলদার হোসেন

সাংবাদিক দিলদার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক ও ডেইলি নিউ নেশন পত্রিকার পাঁচবিবি উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পাঁচবিবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার বিকাশ এবং মানুষের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সংবাদ সংগ্রহ ও লেখনীর মাধ্যমে তিনি পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছেন।

বিশেষ করে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, এলাকার নানা সংকট এবং উন্নয়ন-সম্ভাবনার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতায় অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মীদের কাছে তিনি অমায়িক, সদালাপী ও আন্তরিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সাপ্তাহিক বালিঘাটা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন

জাতীয় দৈনিকে সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দিলদার হোসেন স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পাঁচবিবি থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘বালিঘাটা’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কথা তুলে ধরা, স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং জনসচেতনতা তৈরিতে তাঁর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র প্রকাশনার সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার কারণে পাঁচবিবির সাংবাদিক মহলে তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ সহকর্মীকে হারানোর শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের শোক প্রকাশ

সাংবাদিক দিলদার হোসেনের মৃত্যুতে পাঁচবিবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক সজল কুমার দাস, সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই ও আব্দুল হালিম সাবু এবং পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সাইফুল ইসলাম ডালিম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আবু হাসনাত মন্ডল হেলাল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশকারীরা মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।

পাঁচবিবির সাংবাদিকতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন দিলদার হোসেন

সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের কাজ নয়; এর মাধ্যমে মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও অধিকার তুলে ধরার দায়িত্বও পালন করতে হয়। দিলদার হোসেন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে স্থানীয় পর্যায়ের নানা বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। জাতীয় দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি এলাকার গণমাধ্যমচর্চায় ভূমিকা রেখেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক এবং সদালাপী মানুষকে হারালেন। তাঁর কর্মজীবন ও স্মৃতি পাঁচবিবির সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!