ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নতুন নিয়ম, দুপুর ১২টার আগে প্রবেশ বন্ধ

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম

সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নতুন নিয়ম, দুপুর ১২টার আগে প্রবেশ বন্ধ

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী পাস ইস্যুর সংখ্যা পদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এ ছাড়া ভবনভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি দর্শনার্থীদের পৃথক নিবন্ধন এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

গত ৪ অক্টোবর সচিবালয়ের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, সচিবালয়ে প্রবেশব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দর্শনার্থী পাস ইস্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ অনুযায়ী দর্শনার্থী পাসের সংখ্যা নির্ধারণ

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি দর্শনার্থী পাস দিতে পারবেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব এবং অন্যান্য সিনিয়র সচিব বা সচিবের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচটি পাস দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত সচিবরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিনটি এবং যুগ্মসচিবরা সর্বোচ্চ দুটি দর্শনার্থী পাস দিতে পারবেন।

এর আগে বিভিন্ন দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পদ অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পাস ইস্যু করতে পারবেন না। এতে দর্শনার্থী প্রবেশের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রবেশব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সচিবালয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন সরকারি কাজে মন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন। নতুন নিয়মে পাসের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

দুপুর ১২টার আগে প্রবেশ করতে পারবেন না দর্শনার্থীরা

সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের আগে সাধারণ দর্শনার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দর্শনার্থীদের সচিবালয়ে যাওয়ার সময় পরিকল্পনা করে নিতে হবে। যাঁরা সরকারি কর্মকর্তা বা দপ্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবেশের সময় ও প্রয়োজনীয় পাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তবে নতুন নিয়মে জরুরি সরকারি কাজ, বিশেষ অনুমতি কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানা প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যতিক্রম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

ভবনভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ, যানবাহন চলাচল ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিটি ভবনে প্রবেশাধিকার যাচাইয়ের ব্যবস্থাও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে ভবনভিত্তিক পৃথক অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভবন বা এলাকায় কার প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, তা যাচাই করা সম্ভব হয়। এর ফলে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা যেতে পারে।

সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি কাজে আসা ব্যক্তি এবং অন্যান্য দর্শনার্থীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনভিত্তিক প্রবেশব্যবস্থা কার্যকর হলে কোন ব্যক্তি কোন ভবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন, তা যাচাই করার সুযোগ বাড়বে।

তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভুলতা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত তদারকির ওপর।

বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক নিবন্ধন

নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি দর্শনার্থীদের পরিচয়, সচিবালয়ে আসার উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা দপ্তরের তথ্য এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সংরক্ষণ করতে হবে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি দর্শনার্থীদের চলাচলের তথ্য নথিভুক্ত রাখা এবং প্রয়োজনে তা যাচাই করা সহজ হতে পারে। সরকারি দপ্তরে বিদেশি প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ব্যক্তি কিংবা অন্যান্য বিদেশি অতিথির আগমন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বিদেশি দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে, নিবন্ধনের প্রক্রিয়া কী হবে এবং তথ্য সংরক্ষণের সময়সীমা কত দিন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা জোরদারে কেন এই সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সচিবালয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। এখানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের পরিচয় যাচাই এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

দর্শনার্থী পাসের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলে প্রবেশের অনুমতি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের আগে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখলে প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হতে পারে।

একই সঙ্গে ভবনভিত্তিক অ্যাকসেস কন্ট্রোল এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের নিবন্ধন চালু হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য সংরক্ষণ আরও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এসেছে।

দর্শনার্থীদের জন্য যা জানা জরুরি

নতুন নিয়মের ফলে সচিবালয়ে সরকারি কাজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আগের তুলনায় বেশি পরিকল্পনা নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব বা অন্য কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তাঁদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

দর্শনার্থী পাসের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দুপুর ১২টার আগে প্রবেশ করা যাবে না—এই নির্দেশনা বিবেচনায় রেখে যাতায়াতের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ভবনে কাজ থাকলে সেই ভবনে প্রবেশের অনুমতি বা প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জেনে নেওয়া উচিত। এতে প্রবেশপথে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমতে পারে।

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় নতুন পদক্ষেপ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সচিবালয়ে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে আরও নির্দিষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদ অনুযায়ী পাসের সীমা নির্ধারণ, দুপুর ১২টার আগে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ, ভবনভিত্তিক প্রবেশাধিকার যাচাই এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের পৃথক নিবন্ধন—সব মিলিয়ে সচিবালয়ের প্রবেশব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি, কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রবেশের নিয়ম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সরকারি কাজে আসা মানুষের জন্য নিয়মগুলো স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রবেশপ্রক্রিয়া সহজবোধ্য রাখাও প্রয়োজন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!