ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য

ছবিঃ সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এবং বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন বাহিনীর সদস্যরা। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

দুর্গাপূজা ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন বাহিনীর সদস্যরা।

২ হাজার ৭২৭ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপ এবং বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি মণ্ডপকে নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় পূজার সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রায় ১০ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

সীমান্তবর্তী এলাকায় ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে বিজিবি। কোনো এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি, যাতায়াত এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।

নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার

বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, দুর্গাপূজা ঘিরে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি।

তিনি জানান, দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে দ্রুত টহল পরিচালনা এবং প্রয়োজনের সময় নিরাপত্তা সহায়তা পৌঁছে দিতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

দুর্গম এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ

সীমান্তবর্তী অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের ক্যাম্প স্থাপন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল পরিচালনা এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কোথায় কতটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

বিজিবির এই প্রস্তুতির লক্ষ্য হলো উৎসব চলাকালে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন নিয়ে যা জানাল বাহিনী

রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েনের বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।

রাজধানীতে নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে ঢাকায় কতজন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্যের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সীমান্তবর্তী ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দুর্গাপূজা চলাকালে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!