ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সার মজুত ও অননুমোদিত কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সার মজুত ও অননুমোদিত কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ছবিঃ সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি বিধিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে রাসায়নিক সার মজুত এবং অননুমোদিত কীটনাশক বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের দায়ে সোহাগ মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে ৫৬ বস্তা রাসায়নিক সার ও বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার সরকারি হেফাজতে রেখে ন্যায্যমূল্যে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত সোহাগ মিয়া মোমিনপুর ইউনিয়নের আবু বক্কর মাস্টারের ছেলে। তিনি বোয়ালমারী বাজারে অবস্থিত ‘সোহাগ স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সার মজুতের অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বোয়ালমারী বাজারে সোহাগ স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানে সরকারি অনুমোদন ও ডিলারশিপের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুতের বিষয়টি সামনে আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির অননুমোদিত কীটনাশক প্রদর্শন ও বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল বলে অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখতে পান।

পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে দোকানে মজুত রাখা ৫৬ বস্তা রাসায়নিক সার এবং বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত কীটনাশক জব্দ করা হয়।

কৃষি উপকরণ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ এবং বৈধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা জরুরি। অনুমোদনহীনভাবে সার মজুত কিংবা অননুমোদিত কীটনাশক বিক্রির চেষ্টা কৃষি উপকরণের বাজার ব্যবস্থাপনা ও কৃষকদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জব্দ করা সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত

অভিযানে জব্দ করা ৫৬ বস্তা রাসায়নিক সার সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব সার স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে উন্মুক্তভাবে বিক্রি করা হবে।

সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুত কিংবা অনিয়মের কারণে কৃষকদের যাতে বাড়তি দামে সার কিনতে না হয়, সে জন্য বাজার তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষিকাজের মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কৃষি উৎপাদনের জন্য জরুরি।

জব্দ করা সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সার বিক্রির সময়, স্থান, মূল্য ও বিতরণপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা প্রয়োজন।

অননুমোদিত কীটনাশক বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ

সারের পাশাপাশি দোকানে অননুমোদিত কীটনাশক সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়টিও অভিযানে গুরুত্ব পায়। কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পণ্য নির্বাচন এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। অননুমোদিত পণ্য ব্যবহার করলে ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

কৃষকেরা যাতে মানসম্মত ও অনুমোদিত কৃষি উপকরণ কিনতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সার ও কীটনাশক বিক্রেতাদের বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ, পণ্যের অনুমোদন যাচাই এবং সরকারি বিধিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা উচিত।

কৃষি উপকরণের বাজার তদারকিতে অভিযান

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের এ অভিযান অবৈধভাবে সার মজুত ও অননুমোদিত কীটনাশক বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদারকির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষি উপকরণের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষকেরা যাতে নির্ধারিত দামে সার ও অনুমোদিত কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ৫৬ বস্তা সার ও বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!